মেহেরপুরের ইছাখালী সীমান্তে এক বাংলাদেশি কৃষক ও দুই ভারতীয় নাগরিককে কেন্দ্র করে পাল্টাপাল্টি আটকের ঘটনা ঘটেছে। তবে পরবর্তীতে বিজিবি ও বিএসএফ-এর মধ্যে অনুষ্ঠিত এক পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে তিনজনকে নিজ নিজ দেশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকাল ৮টার দিকে ইছাখালী সীমান্তের ১২৪/৪-এস ও ১২৩/৩-এস পিলার এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। জানা গেছে, ইছাখালী মসজিদপাড়ার মৃত নূর বক্সের ছেলে আব্দুল মান্নান (৭০) বাড়ির পাশের মরিচ ক্ষেতে কীটনাশক স্প্রে করতে গেলে ১২৪/৪-এস সীমান্ত পিলারের কাছ থেকে তাকে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) আটক করে।

ইছাখালী বিজিবি ক্যাম্প সূত্রে জানা যায়, আব্দুল মান্নান সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় কাজ করার সময় বিএসএফের হাতে আটক হন। এই ঘটনার পর তাকে ফেরত আনার লক্ষ্যে বিজিবির পক্ষ থেকে দ্রুত পতাকা বৈঠকের আহ্বান জানানো হয়।

এদিকে, এই ঘটনার রেশ ধরে ১২৩/৩-এস সীমান্ত পিলার এলাকা থেকে ভারতের লালবাজার গ্রামের দুই নাগরিক শচীন কর্মকার ও নারায়ণ দেবকে আটক করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পরবর্তীতে তাদের ইছাখালী বিজিবি ক্যাম্পে সোপর্দ করা হয়।

পাল্টাপাল্টি আটকের ঘটনায় সীমান্ত এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেক উৎসুক স্থানীয় মানুষ শূন্যরেখার কাছাকাছি অবস্থান নেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দুপুর ২টার দিকে সীমান্তের শূন্যরেখায় ব্যাটালিয়ন পর্যায়ে একটি পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন ইছাখালী বিজিবি ক্যাম্পের সুবেদার আবু হানিফ এবং ভারতের পক্ষে নবচন্দ্রপুর বিএসএফ ক্যাম্পের সদস্যরা অংশ নেন।

বৈঠক শেষে বিএসএফের হাতে আটক বাংলাদেশি কৃষক আব্দুল মান্নানকে বিজিবির কাছে এবং স্থানীয়দের হাতে আটক দুই ভারতীয় নাগরিককে বিএসএফের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়। বর্তমানে তারা নিজ নিজ দেশে ফিরে গেছেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়নের (৬ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজমুল হাসান মুক্তকণ্ঠকে বলেন, "পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে দুই দেশের আটক নাগরিকদের নিজ নিজ দেশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বর্তমানে সীমান্ত পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক রয়েছে।"