রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলায় গ্রাম পুলিশ (মহল্লাদার) নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় ঘেরাও করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে বাবুল রেজা নামে এক ব্যক্তি রংপুর জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন।

গত সোমবার (১০ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার ৮ নম্বর চেংমারী ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে প্রথমে মানববন্ধন এবং পরবর্তীতে পরিষদ কার্যালয় ঘেরাও করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন স্থানীয়রা।

অভিযোগ অনুযায়ী, চেংমারী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. বাবুল রেজা গত ১১ মার্চ ২০২৬ তারিখে মহল্লাদার পদের জন্য আবেদন করেন। তিনি লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। তার বাবা মো. সাজু মিয়া ওই ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক মহল্লাদার ছিলেন, যিনি ১ ডিসেম্বর ২০২৩ তারিখে অবসর গ্রহণ করেন। নিয়োগের ৮ নম্বর নীতিমালায় উল্লেখ রয়েছে যে, শূন্য পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে মৃত বা অবসরপ্রাপ্ত মহল্লাদারদের পুত্র-কন্যাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

তবে অভিযোগ করা হয়েছে, এই নীতিমালা উপেক্ষা করে অর্থের বিনিময়ে অন্য এক প্রার্থীকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ভুক্তভোগী বাবুল রেজার দাবি, নবনিযুক্ত মনিরুজ্জামান মনিরের বাবা ৮ নম্বর চেংমারী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং মা ওই ইউনিয়নের মহিলা লীগের সভানেত্রী ছিলেন। রাজনৈতিক প্রভাব ও নীতিমালা লঙ্ঘনের এই নিয়োগের প্রতিবাদে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

একই ধরনের অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে ময়েনপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডেও। সেখানে স্থানীয় প্রার্থী রাব্বী মিয়া ও রিপন মিয়াকে বাদ দিয়ে অর্থের বিনিময়ে পার্শ্ববর্তী ৯ নম্বর ওয়ার্ডের তাজুল ইসলামকে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

নিয়োগপ্রত্যাশী রাব্বী মিয়া বলেন, "নীতিমালায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে—নিজ ওয়ার্ডের প্রার্থীকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। অথচ আমাদের চেয়ে কম যোগ্যতাসম্পন্ন অন্য ওয়ার্ডের এক ছেলেকে টাকার বিনিময়ে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আমরা আমাদের ন্যায্য অধিকার চাই।"

এই বিষয়ে জানতে মিঠাপুকুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে গেলে তিনি ক্যামেরার সামনে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান। ইউএনও বলেন, "ওপরের নির্দেশনা রয়েছে, আমি ক্যামেরার সামনে কোনো বক্তব্য দিতে পারব না। তবে গ্রাম পুলিশ নিয়োগ পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবেই সম্পন্ন হয়েছে।"