কুমিল্লার দেবিদ্বারে ফরিদা ইয়াসমিন (৫৫) হত্যাকাণ্ডের তিন দিন পর ব্যবহৃত অস্ত্র, স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা উদ্ধার করেছে পুলিশ। তবে ঘাতকের দ্বারা টুকরো করে ফেলা মরদেহের হাত-পাসহ বেশ কিছু অংশ এখনও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দেবিদ্বার পৌর এলাকার ছোট আলমপুরের মোহনা আবাসিক এলাকায় নিহত ফরিদা ইয়াসমিনের বাসায় অভিযান চালিয়ে এসব আলামত উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এই ঘটনায় আটক লাইলী আক্তারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করা হলে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ডে থাকা লাইলীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তার ভাড়া নেওয়া বাসায় তল্লাশি চালায় পুলিশ। তল্লাশির সময় রান্নাঘরের একটি পরিত্যক্ত ড্রামের আড়াল থেকে এক জোড়া কানের দুল, একটি গলার চেন, একটি আংটি ও নগদ ১৭ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। এছাড়া টয়লেটের কমোডের ভেতর থেকে একটি আলমারির চাবি এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি দা উদ্ধার করা হয়েছে।

নিহত ফরিদা ইয়াসমিন দেবিদ্বার পৌর এলাকার ফতেহাবাদ ভূঁইয়া বাড়ির মফিজুল ইসলাম ভূঁইয়ার স্ত্রী। স্বামী-স্ত্রী প্রায় ৩০ বছর ধরে ছোট আলমপুরের ওই বাসায় বসবাস করছিলেন। অন্যদিকে, লাইলী আক্তার পারিবারিক কলহের কারণে একই বাসায় একটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে থাকতেন। পুলিশ জানিয়েছে, লাইলী আক্তার এর আগে একটি শিশু হত্যা মামলায় সাড়ে চার বছর কারাভোগ করেছেন।

তদন্তকারী পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, অপরাধ গোপন করতে ফরিদা ইয়াসমিনের মরদেহ টুকরো টুকরো করে পলিথিনে মুড়িয়ে বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেওয়া হয়। মরদেহের কিছু অংশ উদ্ধার করা হলেও হাত-পাসহ কয়েকটি অংশ এখনও নিখোঁজ। সেগুলো উদ্ধারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।

দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান মুক্তকণ্ঠকে বলেন, "মামলার তদন্ত চলছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, লাইলী আক্তার একাই হত্যাকাণ্ডটি ঘটিয়েছেন। পরে ঠান্ডা মাথায় মরদেহের বিভিন্ন অংশ বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেন। সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজেও লাইলী আক্তারের কর্মকাণ্ডের বিষয়টি স্পষ্টভাবে দেখা গেছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।"

তিনি আরও বলেন, "মরদেহের বাকি অংশ উদ্ধারে পুলিশের অভিযান ও অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে।"