ডেল্টা লাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের ১ কোটি ৮৮ লাখ ৭৭ হাজার ৪০০ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সাবেক প্রধান অর্থ কর্মকর্তা (সিএফও) মো. ফারহান উদ্দিনকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকার মহানগর দায়রা জজ শাহজাহান কবিরের আদালতে আইনজীবীর মাধ্যমে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন ৪৪ বছর বয়সী ফারহান উদ্দিন। শুনানি শেষে আদালত তাঁর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
আসামিপক্ষের আইনজীবী মাসুদ চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করে মুক্তকণ্ঠকে বলেন, "সম্প্রতি ফারহান উদ্দিন উচ্চ আদালত থেকে আট সপ্তাহের জামিন পেয়েছিলেন। আজ সেই জামিনের মেয়াদ শেষ হওয়ায় তিনি স্বেচ্ছায় আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন। তবে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।"
আইনজীবী মাসুদ চৌধুরী আরও দাবি করেন, মামলার অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। তাঁর মতে, ফারহান উদ্দিনের দায়িত্ব পালনকালে উচ্চ আদালতে প্রশাসক নিয়োগ নিয়ে বিরোধের কারণে রিট পিটিশন দায়ের করা হয়েছিল। হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগে ওই রিটের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য কোম্পানির অর্থ ব্যয় করা হয়, যার একক ক্ষমতা ছিল তৎকালীন প্রশাসকের হাতে। এই সংক্রান্ত ভাউচারও বিদ্যমান বলে তিনি জানান।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালে ডেল্টা লাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রতিনিধি শাহ মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম এই মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় ফারহান উদ্দিন ছাড়াও সাবেক উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) ও প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা (সিওও) মো. মঞ্জুরে মাওলা, আইন বিভাগের সাবেক পরামর্শক মো. মাহাবুব আলম খান এবং সাবেক নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুজ্জামানসহ মোট চারজনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে আইনি খরচের নামে জালিয়াতি ও দুর্নীতির মাধ্যমে কোম্পানির ১ কোটি ৮৮ লাখ ৭৭ হাজার ৪০০ টাকা আত্মসাৎ করেছেন।
তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, আপিল বিভাগের আদেশে প্রশাসককালীন কার্যক্রম পর্যালোচনার জন্য এম জে আবেদীন, চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস ফার্মকে নিয়োগ দেওয়া হয়। ওই ফার্ম ২০২৪ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর একটি তদন্ত নিরীক্ষা প্রতিবেদন (ইনভেস্টিগেটিভ অডিট রিপোর্ট) জমা দেয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, বিভিন্ন বিল ও ভাউচার তৈরি ও উপস্থাপনের মাধ্যমে আসামিরা মোট ১ কোটি ৮৮ লাখ ৭৭ হাজার ৪০০ টাকা আত্মসাৎ করেছেন।