রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার কর্ণিপাড়া সাদোপাড়া দাখিল মাদ্রাসার দাখিল পরীক্ষার ফলাফলে চরম বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি থেকে ১৯ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিলেও একজনও পাস করতে পারেনি। উল্লেখ্য, এই এমপিওভুক্ত মাদ্রাসাটিতে শিক্ষক রয়েছেন ১৭ জন। এমন হতাশাজনক ফলাফলের ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।

সোমবার (১০ আগস্ট) প্রকাশিত এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণ করে এই তথ্য সামনে এসেছে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের সূত্রে জানা গেছে, বাগমারা উপজেলায় দাখিল পর্যায়ে মোট ৪৪টি মাদ্রাসা রয়েছে, যার মধ্যে ৩৬টি এমপিওভুক্ত। কর্ণিপাড়া সাদোপাড়া দাখিল মাদ্রাসাটিও এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত। এ বছর প্রতিষ্ঠানটি থেকে ১৯ জন শিক্ষার্থী দাখিল পরীক্ষায় অংশ নিলেও পাসের হার দাঁড়িয়েছে শূন্য শতাংশে।

ভবানীগঞ্জ ফাজিল মাদ্রাসা কেন্দ্রসচিব ড. ওয়ারেছ আলী বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, "উপজেলার দুটি প্রতিষ্ঠানের পাসের হার শূন্য। এর মধ্যে কর্ণিপাড়া সাদোপাড়া দাখিল মাদ্রাসাটি এমপিওভুক্ত।"

ফলাফলের এই বিপর্যয়ে ক্ষুব্ধ অভিভাবকেরা শিক্ষকদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। অভিভাবক আনোয়ার হোসেন ও মোবারক হোসেন অভিযোগ করে বলেন, "শিক্ষকদের দায়সারা পাঠদান ও অবহেলার কারণেই এমন ফলাফল হয়েছে।"

তাদের দাবি, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার প্রতি যথাযথ নজর দেওয়া হলে পুরো প্রতিষ্ঠান থেকে একজন শিক্ষার্থীও পাস না করার মতো পরিস্থিতি তৈরি হতো না। তারা আরও অভিযোগ করেন, মাদ্রাসাটিতে শিক্ষার মানোন্নয়নের চেয়ে নিয়োগ-বাণিজ্যকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

এই বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে মাদ্রাসার সুপারিনটেনডেন্ট মামুনুর রশিদ কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি বলেন, "যা বলার মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস বলবে।"

এদিকে অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এস এম মাহমুদ হাসান জানান, এখন পর্যন্ত সব ফলাফলের তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি, বিস্তারিত পরে জানানো হবে।