মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার দুটি দাখিল মাদ্রাসার চলতি বছরের পরীক্ষায় কোনো শিক্ষার্থীই উত্তীর্ণ হতে পারেনি। উত্তর রমজানপুর জিন্নাতিয়া দাখিল মাদ্রাসা ও ক্রোকিরচর হামিদিয়া দাখিল মাদ্রাসার এই চরম বিপর্যয়ের ফলে প্রতিষ্ঠান দুটির পাঠদান পদ্ধতি, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি এবং পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহলে তীব্র প্রশ্ন উঠেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ক্রোকিরচর হামিদিয়া দাখিল মাদ্রাসার ক্ষেত্রে এই ব্যর্থতা নতুন কিছু নয়; এর আগে ২০১৮ সালেও এই প্রতিষ্ঠানের পাসের হার ছিল শূন্য। দীর্ঘ সময় পর আবারও একই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি ঘটায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়েছে। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অভিযোগ, শ্রেণিকক্ষে নিয়মিত পাঠদানের অভাব এবং শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতির কারণেই এমন ফলাফল এসেছে।

একজন অকৃতকার্য শিক্ষার্থীর অভিভাবক আকলিমা বেগম বলেন, "শিক্ষকেরা ঠিকমতো ক্লাস নেন না এবং তাদের সার্বিক তদারকি না থাকায় ছেলেমেয়েরা অনিয়মিত হয়ে পড়েছে।"

পরীক্ষার্থী রুবীনা আক্তার মনে করেন, পাঠদানে শিক্ষকদের অবহেলাই তাদের অকৃতকার্য হওয়ার প্রধান কারণ।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ক্রোকিরচর হামিদিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার সেকান্দার আলী। তিনি বলেন, "কি কারণে সবাই ফেল করল তা আমাদের বোধগম্য নয়। আমরা বোর্ডের কাছে পুনর্নিরীক্ষার (বোর্ড চ্যালেঞ্জ) আবেদন করব। তাছাড়া বর্তমান সময়ে শিক্ষার্থীরা নিয়মিত মাদ্রাসায় আসতে চায় না এবং শাসন করতে গেলে উল্টো প্রতিক্রিয়া দেখায়।"

অন্যদিকে, উত্তর রমজানপুর জিন্নাতিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার আবুল কালাম ভূঁইয়ার সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

এই বিষয়ে মাদারীপুর জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. কামাল হোসাইন জানিয়েছেন, কোনো শিক্ষার্থী পাস না করার কারণ খতিয়ে দেখতে প্রতিষ্ঠান দুটিকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেওয়া হবে। তদন্তের পর প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।