চট্টগ্রাম জেলার ফটিকছড়ি উপজেলার নারায়ণহাট বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে টানা দুই বছর ধরে এসএসসি পরীক্ষায় পাসের হার শূন্য থাকার চিত্র সামনে এসেছে। গতকাল সোমবার প্রকাশিত ফলাফলে দেখা গেছে, চলতি বছর এই বিদ্যালয় থেকে তিনজন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিলেও কেউই পাস করতে পারেনি। এর আগে গত বছরও দুজন শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিয়েছিল, তবে তাদের কেউই সফল হয়নি।

ফলাফল বিশ্লেষণ করে জানা গেছে, এ বছর নারায়ণহাট বালিকা উচ্চবিদ্যালয় থেকে মানবিক বিভাগে দুজন এবং বিজ্ঞান বিভাগে একজন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। গত বছর মানবিক বিভাগ থেকে দুজন পরীক্ষা দিয়েছিল। তবে ২০২১ সাল থেকে এখন পর্যন্ত এই বিদ্যালয় থেকে মোট ২৫ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে, যার মধ্যে পাস করেছে ১৭ জন।

শিক্ষার্থী স্বল্পতা এবং হতাশাজনক ফলাফলের বিষয়ে জানতে বিদ্যালয়ের একটি মুঠোফোন নম্বরে যোগাযোগ করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যালয়টিতে শিক্ষক সংকটসহ নানা সমস্যা রয়েছে এবং প্রতিষ্ঠানটি এখনো মান্থলি পেমেন্ট অর্ডারভুক্ত (এমপিও) নয়। বোর্ডের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই ফলাফলের বিষয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হবে।

উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় মোট আটটি বিদ্যালয়ের পাসের হার শূন্য। গত বছর এই সংখ্যা ছিল মাত্র একটি। এবার মূলত রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলায় পাসের হার শূন্য এমন বিদ্যালয়ের সংখ্যা বেশি, যেখানে প্রতিটি জেলায় তিনটি করে বিদ্যালয় রয়েছে।

পাসের হার শূন্য থাকা বাকি সাতটি বিদ্যালয় হলো "আন্দারমানিক (মাইজছড়ি) জুনিয়র উচ্চবিদ্যালয়, মহালছড়ি উচ্চবিদ্যালয়, উরিরচর জুনিয়র উচ্চবিদ্যালয়, ভাইবোনছড়া বালিকা উচ্চবিদ্যালয়, জারুলছড়ি হেডম্যানপাড়া উচ্চবিদ্যালয়, তারাবানিয়া উচ্চবিদ্যালয় এবং শিজক দাজার বাজার জুনিয়র স্কুল।" এই সাতটি প্রতিষ্ঠান থেকে সব মিলিয়ে ৮১ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিলেও কেউ পাস করতে পারেনি।

এই বিষয়ে সন্দ্বীপ উপজেলার উরিরচর জুনিয়র উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. হাসানুজ্জামান এবং রাঙামাটি জেলার আন্দারমানিক (মাইজছড়ি) জুনিয়র উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ভবতোষ চাকমার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে দুটি নম্বরই বন্ধ পাওয়া যায়।

বিষয়টি নিয়ে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের উপ–বিদ্যালয় পরিদর্শক তাজুল ইসলাম বলেন, "বিদ্যালয়গুলোর ফলাফল কেন খারাপ হয়েছে, সেটি পর্যালোচনার পাশাপাশি বিদ্যালয়ের সার্বিক পরিস্থিতিও দেখা হবে। বিষয়টি পর্যালোচনার পর বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হবে। তাদের ব্যাখ্যা পাওয়ার পর সেটি যাচাই করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।"