পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলায় চলতি বছরের দাখিল পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। মাগুড়া দাখিল মাদ্রাসা থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ১৯ জন শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। অন্যদিকে, লতিফা-আয়শা দাখিল মাদ্রাসা থেকে ২০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র ১ জন উত্তীর্ণ হয়েছে, যার ফলে পাসের হার দাঁড়িয়েছে মাত্র ৫ শতাংশ।
সোমবার (১০ আগস্ট) প্রকাশিত ফলাফল বিশ্লেষণ করে এবং ভাঙ্গুড়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের সূত্রে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। ভাঙ্গুড়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আতিকুজ্জামান মাগুড়া দাখিল মাদ্রাসার শূন্য পাসের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৭৬ সালে প্রতিষ্ঠিত মাগুড়া দাখিল মাদ্রাসাটি ২০০১ সালে এমপিওভুক্ত হয়। একসময় প্রতিষ্ঠানটিতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা সন্তোষজনক ছিল, তবে বর্তমানে তা আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ এবং পাঠদানের মান নিয়ে স্থানীয় সচেতন মহলের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, শিক্ষকদের নিয়মিত পাঠদানে অবহেলা এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় অনাগ্রহের কারণে শিক্ষার মান তলানিতে পৌঁছেছে। এছাড়াও, গ্রামগঞ্জে মাদক ও মোবাইল ফোনের অপব্যবহার বেড়ে যাওয়ার কারণে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগ নষ্ট হচ্ছে বলে তারা মনে করেন। অভিভাবক ও স্থানীয় অধিবাসীরা শিক্ষকদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ মানতে নারাজ প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ। মাগুড়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার মো. জাকির হোসেন বলেন, "ফলাফল খারাপ হয়েছে, আমরা কাঙ্ক্ষিত মান ধরে রাখতে পারিনি। এটি গ্রামীণ এলাকার প্রতিষ্ঠান, শিক্ষার্থীরা নিয়মিত মাদ্রাসায় উপস্থিত হতে চায় না।"