হবিগঞ্জে ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫৫ দশমিক ৪ শতাংশ। জেলার ৯টি উপজেলায় মোট ১৫ হাজার ৭৬৬ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেওয়ার মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৮ হাজার ৭২৮ জন। এছাড়া জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন ৬৭১ জন শিক্ষার্থী।
সোমবার (১০ আগস্ট) প্রকাশিত হবিগঞ্জ জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ের ফলাফল বিবরণী থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, জেলার মধ্যে সর্বোচ্চ পাসের হার শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলায়, যেখানে ৭৩ দশমিক ৯০ শতাংশ শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে। এই উপজেলায় ৬৬৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ৪৭০ জন এবং জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১৫ জন।
হবিগঞ্জ সদর উপজেলায় ২ হাজার ৮৪৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১ হাজার ৮০৩ জন পাস করেছেন, যার পাসের হার ৬৩ দশমিক ৪০ শতাংশ। তবে জিপিএ-৫ প্রাপ্তির দিক থেকে এই উপজেলা সবার এগিয়ে, এখানে সর্বোচ্চ ২৪১ জন জিপিএ-৫ পেয়েছেন।
অন্যান্য উপজেলার মধ্যে মাধবপুরে ২ হাজার ২৬৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১ হাজার ৪০৪ জন উত্তীর্ণ হয়ে পাসের হার ৬১ দশমিক ৯১ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৯৩ জন। লাখাই উপজেলায় ৫৪৯ জনের মধ্যে ৩৩৭ জন পাস করে ৬১ দশমিক ৩৮ শতাংশ পাসের হার অর্জন করেছেন, জিপিএ-৫ পেয়েছেন ২৩ জন। চুনারুঘাট উপজেলায় ২ হাজার ৪৮৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১ হাজার ৩৩৯ জন উত্তীর্ণ হয়েছেন, পাসের হার ৫৩ দশমিক ৮৮ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৭৪ জন।
এছাড়া বাহুবলে পাসের হার ৫৩ দশমিক ৫৬ শতাংশ, আজমিরীগঞ্জে ৫২ দশমিক ৩৭ শতাংশ, নবীগঞ্জে ৪৬ দশমিক ৫৭ শতাংশ এবং বানিয়াচংয়ে ৪৫ দশমিক ১৭ শতাংশ।
একই সময়ে দাখিল পরীক্ষায় হবিগঞ্জ জেলায় মোট ৩ হাজার ২০৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১ হাজার ৭১৩ জন কৃতকার্য হয়েছেন। পাসের হার ৫৫ দশমিক ৮৮ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছেন ২০ জন। এসএসসি ভোকেশনাল পরীক্ষায় ১ হাজার ১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৬০০ জন উত্তীর্ণ হয়ে ৫৯ দশমিক ৯৪ শতাংশ পাসের হার অর্জন করেছেন, জিপিএ-৫ পেয়েছেন ২৬ জন। অন্যদিকে, দাখিল ভোকেশনাল পরীক্ষায় ১২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৮ জন উত্তীর্ণ হয়ে ৬৬ দশমিক ৬৬ শতাংশ পাসের হার অর্জন করেছেন।
ফলাফল প্রকাশের পর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মধ্যে আনন্দ ও উচ্ছ্বাসের পরিবেশ দেখা গেছে। বন্ধু ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তারা এই আনন্দ ভাগ করে নেন। জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থী তাকওয়া দীন সাইফ জানান, "ভালো ফলাফল করার জন্য দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত পড়াশোনা করেছি। শিক্ষক ও পরিবারের সহযোগিতা পেয়েছি। ভবিষ্যতে ভালো একটি বিষয়ে পড়াশোনা করে বাবা-মা ও দেশের জন্য কিছু করতে চাই।"
হবিগঞ্জ জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ফরিদা নাজমীন মুক্তকণ্ঠকে বলেন, "শুধু জিপিএ-৫ নয়, শিক্ষার্থীদের জ্ঞান, দক্ষতা ও নৈতিক শিক্ষার দিকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।"
তিনি একই সঙ্গে ফলাফলে অপেক্ষাকৃত কম নম্বর পাওয়া শিক্ষার্থীদের হতাশ না হয়ে ভবিষ্যৎ শিক্ষাজীবনে আরও মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান।