ঠিকাদারি ও আউটসোর্সিং প্রথা বিলুপ্ত করে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশে (বিএটিবি) সরাসরি চাকরি স্থায়ীকরণসহ ন্যায্য অধিকার আদায়ের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে ‘বিএটিবি ফিল্ড টেকনিশিয়ান এবং অফিস স্টাফ শ্রমিক কল্যাণ ইউনিয়ন’। দাবি পূরণ না হলে দেশব্যাপী অবরোধসহ কঠোর কর্মসূচিতে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন শ্রমিক নেতারা।
সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুর ১২টায় শহরের চিলিস ফুড পার্কের সভাকক্ষে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক সুজন শেখ একটি লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন।
লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, ২০১০ সাল থেকে দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে তারা অবিচ্ছিন্নভাবে বিএটিবির মাঠপর্যায়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে আসছেন। এর মধ্যে তামাকচাষি নির্বাচন, চুক্তি সম্পন্ন করা, বীজ ও সার বিতরণ, মাঠ পর্যবেক্ষণ, তামাক সংগ্রহ এবং কোম্পানির বিভিন্ন তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক অ্যাপ পরিচালনার কাজ সততার সঙ্গে সম্পাদন করছেন তারা।
শ্রমিক নেতাদের অভিযোগ, আগে এসব পদে স্থায়ী জনবল থাকলেও অতিরিক্ত মুনাফা অর্জনের লক্ষ্যে বহুজাতিক এই কোম্পানিটি পদগুলোকে আউটসোর্সিং বা ঠিকাদারি প্রথার আওতায় নিয়ে এসেছে। দীর্ঘ ১৬ বছর কাজ করার পরও তাদের চাকরির ন্যূনতম নিরাপত্তা নেই এবং শ্রম আইন অনুযায়ী বাৎসরিক লভ্যাংশ (ডব্লিউপিপিএফ) থেকেও তাদের বঞ্চিত রাখা হচ্ছে বলে দাবি করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়, শ্রম আইন ২০০৬-এর বিধিমালার ২০১৫-এর ১৬(৫) ও ২০২২-এর ১৮(২) ধারা অনুযায়ী তাদের চাকরি স্থায়ীকরণ একটি আইনি অধিকার। এই দাবিতে আন্দোলন চলাকালে গত ৩ আগস্ট রংপুর বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে একটি শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শ্রমিকদের অভিযোগ, আইনি ভিত্তি থাকা সত্ত্বেও কর্তৃপক্ষ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সংগঠনের শীর্ষস্থানীয় ২০ জন নেতাকে দূরবর্তী স্থানে বদলি করেছে এবং ৩৮ জন কর্মীর নামে জিডি করে হয়রানি করছে।
দাবি আদায়ের লক্ষ্যে গত ২০ জুলাই থেকে দুই দফায় ১৭ দিন কর্মবিরতি পালনের পর কার্যকর সমাধান না আসায় গত ৬ আগস্ট থেকে পুনরায় ১০ দিনের পূর্ণাঙ্গ কর্মবিরতি পালন করছেন কর্মীরা।
সম্মেলনে শ্রমিকেরা স্পষ্টভাবে জানান, ঠিকাদারি প্রথার এই "আধুনিক দাসত্ব" থেকে মুক্তি পেয়ে বিএটিবিতে সরাসরি স্থায়ী নিয়োগ না পাওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন চলবে। চলমান কর্মবিরতির মধ্যে সমাধান না এলে দেশের সব রিজিয়নে সর্বাত্মক অবরোধ কর্মসূচি দেওয়া হবে। এর ফলে মাঠপর্যায়ে কোনো ক্ষয়ক্ষতি হলে তার সমস্ত দায় বিএটিবি কর্তৃপক্ষকেই নিতে হবে বলে তারা সতর্ক করেন।
সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি আরিফুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক সামিউল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পলাশ এবং সদস্য গিয়াস উদ্দিনসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া অনুষ্ঠানে কুষ্টিয়া সাংবাদিক ইউনিয়ন-কেইউজে’র সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক বাচ্চু, কুষ্টিয়া প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও কুষ্টিয়া সাংবাদিক ইউনিয়ন-কেইউজে’র সহ-সভাপতি মজিবুল শেখ, দপ্তর সম্পাদক এস এম মাহফুজ উর রহমানসহ জেলার বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।