কুমিল্লার বুড়িচংয়ে মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে মাদকসেবনের অভিযোগে এক যুবদল নেতাসহ ছয়জনকে আটক করেছে পুলিশ। পরবর্তীতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
রোববার (৯ আগস্ট) রাতে বুড়িচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লুৎফর রহমানের নেতৃত্বে উপজেলার বাকশিমুল রেলগেট এলাকায় এই অভিযান চালানো হয়। আটককৃতদের মধ্যে কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার ১ নম্বর কালীর বাজার (উত্তর) ইউনিয়ন যুবদলের সহসংগঠনিক সম্পাদক আমিনুল ইসলাম রয়েছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সীমান্ত এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান শেষ করে ফেরার পথে বাকশিমুল রেলগেট এলাকায় অবস্থান নেয় বুড়িচং থানার পুলিশ। এসময় সীমান্ত এলাকা থেকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে ছয় ব্যক্তি বুড়িচংয়ের দিকে আসছিলেন। পুলিশ অটোরিকশাটি থামিয়ে তল্লাশি চালিয়ে তাদের আটক করে। পুলিশের দাবি, চালকসহ আটক ব্যক্তিদের সবাইকে মাতাল অবস্থায় পাওয়া যায়।
আটক ব্যক্তিদের বুড়িচং উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফাবলিহা আনবারের নেতৃত্বে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করা হলে আদালত তিনজনকে ১২ দিন এবং অপর তিনজনকে ৮ দিন করে সশ্রম কারাদণ্ড দেন। আটক অন্য ব্যক্তিরা হলেন—কুমিল্লা কোতোয়ালি থানার মনশাসন এলাকার আরিফ হোসেন, সুলাইমান, মনির হোসেন, রবিউল আলম এবং মোতালেব।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১ আগস্ট ঘোষিত ১ নম্বর কালীর বাজার (উত্তর) ইউনিয়ন যুবদলের কমিটিতে সহসংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পান আমিনুল ইসলাম। তবে মাদকসেবনের অভিযোগে তিনি আটকের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিয়েছে দল। কালীর বাজার (উত্তর) ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মামুনুর রশিদ বলেন, "মাদকসেবীর সঙ্গে সংগঠনের কোনো সম্পর্ক থাকতে পারে না। ইতোমধ্যে আমরা তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি এবং তাকে দল থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।"
ঘটনা প্রসঙ্গে বুড়িচং থানার ওসি লুৎফর রহমান বলেন, "সীমান্ত এলাকায় অভিযান শেষে ফেরার পথে বাকশিমুল রেলগেটে অবস্থানকালে সিএনজিচালিত অটোরিকশা তল্লাশি করে মাতাল অবস্থায় চালকসহ ৬ জনকে আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক তাদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড প্রদান করেন।"