নোয়াখালীর চাটখিলে জামায়াতে ইসলামীর কর্মীদের সঙ্গে যুবলীগের কর্মীদের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। রোববার (৯ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার হাটপুকুরিয়া ইউনিয়নে এই সংঘর্ষের ফলে অন্তত ১১ জন আহত হয়েছেন। জামায়াতের অভিযোগ, এই ঘটনায় যুবদল ও ছাত্রদলের কিছু নেতাকর্মীকেও সক্রিয় দেখা গেছে।
ঘটনার সূত্রপাত হয় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক ও জামায়াতে ইসলামীর কর্মী সামির হোসেনকে (২৫) মারধরের মধ্য দিয়ে। সংশ্লিষ্টদের সূত্রে জানা গেছে, সামির হোসেনের সঙ্গে স্থানীয় যুবলীগের কয়েকজন কর্মীর দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় রোববার বিকেল পাঁচটার দিকে হাটপুকুরিয়া বিদ্যালয়ের সামনে সামিরকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার প্রতিবাদে জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা সেখানে উপস্থিত হলে যুবলীগ, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে তাদের কথা কাটাকাটি হয়, যা দ্রুতই সংঘর্ষে রূপ নেয়।
উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মহিউদ্দিন হাসান অভিযোগ করেন, স্থানীয় যুবলীগ কর্মী মো. সোহাগ ও হাছান পাটোয়ারীর নেতৃত্বে প্রথমে সামিরকে মারধর করা হয়। পরবর্তীতে জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা থানায় অভিযোগ দিতে যান। তবে রাত নয়টার দিকে থানার সামনে থেকে ফেরার সময় যুবলীগের নেতাকর্মীরা তাদের ওপর পুনরায় হামলা চালান। মহিউদ্দিন হাসানের দাবি, এই দ্বিতীয় হামলার সময় যুবলীগের পাশাপাশি যুবদল ও ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মীকেও সেখানে দেখা গেছে।
হামলায় জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের সামির হোসেন, রবিউল হোসেন (৩৪), শাহিন আলম (২৬), মো. সুজন (৩০) ও রিফাত ইসলাম (২৩) আহত হয়েছেন বলে জানান মহিউদ্দিন হাসান। অন্যদিকে, যুবলীগের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সূত্র দাবি করেছে, জামায়াতের হামলায় তাদের ছয় কর্মী আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে সোহাগ ও হাছান পাটোয়ারীর নাম জানা গেছে। বাকি আহতদের পরিচয় জানা যায়নি।
আহতদের চিকিৎসার জন্য চাটখিল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ঘটনার বিষয়ে যুবদলের কোনো নেতাকর্মীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ফরিদ আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি মিটিংয়ে থাকায় পরে কথা বলার কথা জানান। অন্যদিকে, উপজেলা বিএনপির সদস্য ও হাটপুকুরিয়ার বাসিন্দা তারেক আজিজ শিপন জানান, তিনি এ বিষয়ে কিছু জানেন না।
উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মহিউদ্দিন হাসান নিশ্চিত করেছেন যে, ঘটনার বিষয়ে তাদের পক্ষ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। তবে চাটখিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল মোন্নাফ জানান, "যুবদল ও বিএনপির পক্ষ থেকে দুটি অভিযোগ দেওয়া হয়েছিল। পরে তারা অভিযোগ দুটি প্রত্যাহার করে নেন।"