পঞ্চগড়ে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলে তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো পরীক্ষার্থীই উত্তীর্ণ হতে পারেনি। অকৃতকার্য হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে বোদা উপজেলার দুটি বালিকা উচ্চবিদ্যালয় এবং তেঁতুলিয়া উপজেলার একটি দাখিল মাদ্রাসা রয়েছে।
শতভাগ অকৃতকার্য হওয়া প্রতিষ্ঠান তিনটি হলো— বোদা উপজেলার বলরামহাট মডেল বালিকা উচ্চবিদ্যালয়, বোদা সর্দারপাড়া বালিকা উচ্চবিদ্যালয় এবং তেঁতুলিয়া উপজেলার তেঁতুলিয়া দাখিল মাদ্রাসা। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বোদা উপজেলার দুটি বিদ্যালয় নন-এমপিওভুক্ত হলেও তেঁতুলিয়া দাখিল মাদ্রাসাটি একটি এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠান।
জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যালয়ের সূত্রমতে, তেঁতুলিয়া দাখিল মাদ্রাসা থেকে ২১ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিলেও কেউ পাস করতে পারেনি। অন্যদিকে, বোদা সর্দারপাড়া বালিকা উচ্চবিদ্যালয় থেকে ৩ জন এবং বলরামহাট মডেল বালিকা উচ্চবিদ্যালয় থেকে ১ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছিলেন, যাদের সবাই অকৃতকার্য হয়েছেন।
গত সোমবার (১০ আগস্ট) বিকেলে বোদা উপজেলার ওই দুটি বিদ্যালয়ে সরেজমিনে পরিদর্শনে গেলে চরম বিশৃঙ্খলা ও অব্যবস্থাপনার চিত্র ধরা পড়ে। ১৯৯৮ সালে প্রতিষ্ঠিত বলরামহাট মডেল বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকসহ ১০ জন শিক্ষক ও ৫ জন কর্মচারী কর্মরত থাকলেও দুপুরে মাত্র ৩ জন শিক্ষক ও ১০ জন শিক্ষার্থীর উপস্থিতি পাওয়া যায়। এমনকি প্রতিষ্ঠানে কোনো সাইনবোর্ডও ছিল না। স্থানীয়দের অভিযোগ, নিয়মিত পাঠদান না হলেও কেবল এমপিওভুক্তির আশায় প্রতিষ্ঠানটি চালু রাখা হয়েছে। অন্যদিকে, বোদা সর্দারপাড়া বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের একমাত্র কক্ষটি তালাবদ্ধ পাওয়া যায় এবং পাশে বেড়াহীন একটি জরাজীর্ণ ঘরের কঙ্কাল দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।
এই বিষয়ে প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্বশীলদের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে বোদার দুটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফোন ধরেননি এবং তেঁতুলিয়া দাখিল মাদ্রাসার কর্তৃপক্ষ কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
বোদা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আইবুর ইসলাম বলেন, "নন-এমপিওভুক্ত এই দুটি প্রতিষ্ঠানে কখনোই পাঠদানের ধারাবাহিকতা ছিল না। বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখব।"
পঞ্চগড় জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা খাইরুল আনাম মো. আফতাবুর রহমান হেলালী জানান, জেলায় শতভাগ অকৃতকার্য হওয়া তিনটি প্রতিষ্ঠানের ব্যাপারে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, "এর মধ্যে একটি প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত হওয়া সত্ত্বেও কেন এমন ফল হলো, সে বিষয়ে তাদের কাছে লিখিত ব্যাখ্যা চাওয়া হবে এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"