২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে ময়মনসিংহ বিভাগের চার জেলার মধ্যে সর্বোচ্চ পাসের হার অর্জন করেছে নেত্রকোনা। জেলাটিতে এবার গড় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৬০.৪৯ শতাংশে। এছাড়া প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক প্রয়াত হুমায়ূন আহমেদ প্রতিষ্ঠিত কেন্দুয়া উপজেলার ‘শহীদ স্মৃতি বিদ্যাপীঠ’ থেকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী সকল শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়ে শতভাগ সাফল্যের রেকর্ড গড়েছে।
জেলা শিক্ষা কার্যালয়ের তথ্যমতে, বিভাগের বাকি তিন জেলার মধ্যে ময়মনসিংহে পাসের হার ৫৭.৮০ শতাংশ, জামালপুরে ৫৫.৬০ শতাংশ এবং শেরপুরে ৫৫.৪১ শতাংশ। সামগ্রিক ফলাফলে সব জেলাই ৫৭ থেকে ৬০ শতাংশের ঘরে থাকলেও বাকি তিন জেলাকে পেছনে ফেলে প্রথম স্থান দখল করেছে নেত্রকোনা।
উপজেলাভিত্তিক ফলাফলের বিশ্লেষণে দেখা যায়, নেত্রকোনা জেলার মধ্যে সর্বোচ্চ পাসের হার মোহনগঞ্জে ৬৮.৩৬ শতাংশ। এছাড়া নেত্রকোনা সদরে ৬৪.৩১ শতাংশ, মদনে ৬০.৮২ শতাংশ, পূর্বধলায় ৬০.৪৯ শতাংশ, কলমাকান্দায় ৫৯.২৮ শতাংশ, দুর্গাপুরে ৫৮.৩০ শতাংশ, কেন্দুয়ায় ৫৫.০৭ শতাংশ, আটপাড়ায় ৫০.৮২ শতাংশ, খালিয়াজুরীতে ৪৯.৪১ শতাংশ এবং বারহাট্টা উপজেলায় ৪৯.৩১ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে।
জেলা শিক্ষা কার্যালয়ের তথ্যানুযায়ী, নেত্রকোনার কোনো সাধারণ উচ্চবিদ্যালয়ে এবার কোনো শিক্ষার্থী ফেল করেনি। তবে কারিগরি (ভোকেশনাল) শাখায় ‘মালনী কারিগরি স্কুল’ থেকে কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি। এবার নেত্রকোনায় দাখিল পরীক্ষায় পাসের হার ৫৩.৬১ শতাংশ এবং ভোকেশনাল পরীক্ষায় পাসের হার ৪৬.৬০ শতাংশ।
শহীদ স্মৃতি বিদ্যাপীঠের শতভাগ পাসের বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষক আশাদুজ্জামান বলেন, "আমরা বছরজুড়েই শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ও পূর্ণাঙ্গ পাঠদানের চেষ্টা করি। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের এই নিষ্ঠার ফলেই শতভাগ পাস সম্ভব হয়েছে। আশা করছি ভবিষ্যতেও এই সাফল্য অব্যাহত থাকবে।"
নেত্রকোনা জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর কবীর আহাম্মদ জানান, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত শ্রেণিকক্ষমুখী করতে সমন্বিত উদ্যোগ নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। শ্রেণিকক্ষে উপস্থিতি নিশ্চিত করা গেলে আগামী বছরগুলোতে শিক্ষার মান ও ফলাফল আরও উন্নত হবে বলে তিনি মনে করেন।
অন্যদিকে, নেত্রকোনার জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান বলেন, "জেলার সব উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজে বিতর্ক, বিজ্ঞান, ভাষা এবং সাংস্কৃতিক ক্লাব গঠনের মতো গঠনমূলক উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীরা পাঠ্যপুস্তকের পাশাপাশি বিভিন্ন সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবে, যা তাদের মেধা ও মনন বিকাশের পাশাপাশি ফলাফলেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।"