সৌদি আরবের রিয়াদের একটি সোফা কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারিয়েছেন নওগাঁর আত্রাই উপজেলার ১৩ জন প্রবাসী কর্মী। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় মোট ১৬ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১৩ জনই নওগাঁর সন্তান। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন আত্রাইয়ের গন্ডগোহালি, ডুবাই, বৈঠাখালি, খনজোর, পারকাসুন্দা ও দিঘিরপাড় গ্রামের বাসিন্দারা।
এই দুর্ঘটনায় সবচেয়ে করুণ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে আত্রাইয়ের কালিকাপুর ইউনিয়নের গন্ডগোহালি গ্রামের গুফফার প্রামাণিকের পরিবারে। তিনি তার দুই সন্তান মোহন প্রামাণিক ও সুমন প্রামাণিককে হারিয়েছেন। প্রবাস থেকে নানির সঙ্গে শেষবার ভিডিও কলে কথা বলার সময় দুই ভাই বলেছিলেন, “নানিরো, দ্যাশে যাইয়া তোমাকেরেক জড়ায় ধরা বিয়াশাদি করমু। তোমারেক দিয়া কাজ করাইয়া নিমু না। তোমরা খালি খাবেন আর নাচগান করবেন, তোমাকেরেক লিয়া আনন্দ করবো। দুই ভাই একসাথে আইসা বিয়া করমু।”
নাতিদের সেই শেষ কথা মনে করে বিলাপ করতে করতে নানি সায়রা বেগম বলেন, “সেই চাওয়াল দুডা আজ একসঙ্গে দুনিয়া ছাইড়া চইলা গেল। সেই বিয়া খাওয়া আর ভাগ্যে হইল না রে বাবারো! এমন ভাগ্য আল্লাহ দিল না রে বাবা!”
সায়রা বেগম জানান, পরিবারের অভাব দূর করতে বড় ভাই মোহন প্রথমে সৌদি আরবে যান এবং পরে ছোট ভাই সুমনকেও সেখানে নিয়ে যান। দুই ভাই কঠোর পরিশ্রম করে দেশে নতুন বাড়ি তৈরির কাজ শুরু করেছিলেন। পরিকল্পনা ছিল বাড়ির কাজ শেষ হলে তারা একসঙ্গে দেশে ফিরে বিয়ে করবেন এবং সুখে সংসার করবেন। কিন্তু রিয়াদের সেই অগ্নিকাণ্ডে সব স্বপ্ন মুহূর্তেই শেষ হয়ে গেল। বর্তমানে শোকাতুর মা বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন এবং পুরো পরিবার দিশেহারা হয়ে পড়েছে।
সন্তানদের হারিয়ে বাকরুদ্ধ বাবা গুফফার প্রামাণিক সরকারের কাছে আকুল আবেদন জানিয়ে বলেন, “মোহন ও সুমনসহ নিহত সব বাংলাদেশির মরদেহ যেন দ্রুত দেশে এনে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।”
এই বিষয়ে নওগাঁর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শোকার্ত পরিবারের প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা জানানো হয়েছে। তিনি আরও বলেন, নিহতদের অধিকাংশই নওগাঁর হওয়ায় তাদের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার দাপ্তরিক প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। এছাড়া সরকারি নিয়মানুযায়ী স্বজনদের সার্বিক সহযোগিতা ও আর্থিক সহায়তা প্রদানের কার্যক্রম দ্রুত শুরু করা হবে।