জামালপুরে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় এবার চারটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। অকৃতকার্য হওয়া এই প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে দুটি উচ্চ বিদ্যালয় এবং দুটি দাখিল মাদ্রাসা রয়েছে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, শূন্য পাসের তালিকায় থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো হলো— ইসলামপুর উপজেলার কদমতলী ক্বারীপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়, বীর মাইজবাড়ী বালিকা দাখিল মাদ্রাসা, সরিষাবাড়ী উপজেলার চাপারকোনা মনিজা আবুল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এবং বকশীগঞ্জ উপজেলার শেফালী মফিজ মহিলা মাদ্রাসা।
বিস্তারিত তথ্যে দেখা যায়, ইসলামপুর উপজেলার কদমতলী ক্বারীপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এবার এসএসসি পরীক্ষায় তিনজন শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছিল এবং তারা সবাই ফেল করেছে। বর্তমানে ওই বিদ্যালয়ে ১৮৭ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে শিক্ষক রয়েছেন ৯ জন। একই উপজেলার বীর মাইজবাড়ী বালিকা দাখিল মাদ্রাসা থেকে দাখিল পরীক্ষায় ১৮ জন শিক্ষার্থী অংশ নিলেও কেউ উত্তীর্ণ হতে পারেনি। মাদ্রাসাটিতে বর্তমানে ১৩০ জন শিক্ষার্থী ও ৮ জন শিক্ষক কর্মরত আছেন।
সরিষাবাড়ী উপজেলার চাপারকোনা মনিজা আবুল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ১১ জন শিক্ষার্থীর সবাই অকৃতকার্য হয়েছে। ওই বিদ্যালয়ে চারজন শিক্ষক রয়েছেন। অন্যদিকে, বকশীগঞ্জ উপজেলার শেফালী মফিজ মহিলা মাদ্রাসা থেকে দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ১৪ জন শিক্ষার্থীর কেউই পাস করতে পারেনি।
ফলাফলের বিষয়ে কদমতলী ক্বারীপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. সাইফুল্লাহ বলেন, "২০২৫ সালে বিদ্যালয়টি পাঠদানের অনুমতি পায়। নিয়ম অনুযায়ী আমাদের শিক্ষার্থীদের ২০২৭ সালে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা ছিল। তবে রেজিস্ট্রেশন ও পরীক্ষাসংক্রান্ত বিষয় যাচাইয়ের অংশ হিসেবে তিনজন শিক্ষার্থীকে এবার পরীক্ষায় অংশ নিতে দেওয়া হয়। ফলে এই ফলাফলকে বিদ্যালয়ের নিয়মিত ব্যাচের ফলাফল হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক হবে না।"
বীর মাইজবাড়ী দাখিল মাদ্রাসার সুপার হাবিবুর রহমান বলেন, "প্রতিষ্ঠানে বিজ্ঞান বিভাগের বিষয়ভিত্তিক শিক্ষকসংকট রয়েছে। এর প্রভাব শিক্ষার্থীদের ফলাফলেও পড়েছে।"
এ প্রসঙ্গে ইসলামপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আরিফা আক্তার জানান, পূর্ণাঙ্গ ফলাফল হাতে পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সরিষাবাড়ী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর কবীর বলেন, "চাপারকোনা মনিজা আবুল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে চারজন শিক্ষক রয়েছেন। সেখানে ১১ জন শিক্ষার্থীর সবাই অকৃতকার্য হওয়ার বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক।"
জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শামছুর আলম বলেন, "জামালপুরের যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শতভাগ ফেল করেছে, সেগুলোর মধ্যে দুটি স্কুল ও দুটি মাদ্রাসা রয়েছে। এমপিওভুক্ত এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা নিয়মিত সরকারি বেতন-ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা পাওয়া সত্ত্বেও শিক্ষার্থী সংখ্যা কম এবং সেখানে সঠিকভাবে পাঠদান করানো হচ্ছে না। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"