বিএনপির উদ্দেশে জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘চাঁদাবাজ ও দুর্নীতিবাজদের হাত বন্ধ করতে চাই। আমরা এ ধরনের বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেখানে ন্যায়–ইনসাফের বাংলাদেশে সবার জন্য সমান অধিকার থাকবে। তা আমরা নিশ্চিত করতে চাই। এ জন্যই ছিল গণভোট। সরকারে যাঁরা আছেন, তাঁরাও বলেছিলেন হ্যাঁ ভোটে রায় দেন। এখন আমরা “হ্যাঁ”র ওপরে আছি, তাঁরা “না” হয়ে গেছে।’

আজ সোমবার দুপুরে গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া সরকারি কাজী আজহার আলী মডেল উচ্চবিদ্যালয় মাঠে জামায়াত আয়োজিত জনসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শফিকুর রহমান এ কথা বলেন। এতে সভাপতিত্ব করেন জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির ও গাইবান্ধা-৫ (সাঘাটা ও ফুলছড়ি) আসনের সংসদ সদস্য আবদুল ওয়ারেছ।

জনগণের রায় মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা পরিষ্কার বলছি, জনতার রায়কে অমান্য–অগ্রাহ্য করলে অতীতে কেউ টিকে নাই, শান্তি পায় নাই, সম্মান পায় নাই, ক্ষমতা পাকাপোক্ত করতে পারে নাই। ১৪, ১৮, ২৪-এর নিবার্চন তার প্রমাণ। জনগণের রায় মেনে নিন। ফ্যাসিবাদের রাস্তা বন্ধ করুন, সংস্কার সাধন করুন, মানবিক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের রাস্তা খুলে দিন। আমরা বিরোধী দল হিসেবে আপনাদেরকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করব। এখন যে পথে হাঁটছেন, সেই পথে আপা হেঁটেছিলেন। আপা যাওয়ার আগে বলতেন, “আমি পালাই না। ওমুকের মেয়ে পালায় না।” কী হইছে এখন? পালাইছে। আপনারা স্লোগান দিয়েছেন—পালাইছে রে পালাইছে। এই পথে যাঁরাই হাঁটবেন, তাঁদেরকেই পালাইতে হবে। এই পথ পালানোর পথ। এই পথে হাঁটবেন, আপনি মক্কায় যেতে পারবেন না, আপনি দিল্লিতে যাবেন। এই পথে শেষ ঠিকানা দিল্লি। এই দেশের মানুষ দিল্লির খবরদারি চায় না। কোনো আধিপত্য চায় না।’

‘বর্তমান সরকার ও বিরোধী দল আমরা গত ১৫ বছর মজলুম ছিলাম। মজলুমরা এখন আবার জালিম হতে যাব কেন?’ প্রশ্ন তুলে শফিকুর রহমান বলেন, ‘এই সরকার গঠন হওয়ার পর আমাদের পাঁচজনকে খুন করা হয়েছে। আমরা কি চাই, আবার খুনের রাজত্ব কায়েম হোক? না চাই না, সাবধান, এখানেই স্টপ, ফুলস্টপ। আর সামনে পা বাড়ায়েন না খুনের দিকে। এই বাংলাদেশের মানুষ বিশেষ করে যুবকেরা কারও চোখ রাঙানোর ভয় করে না। আপনারা হাজারবার চেষ্টা করলেও ফ্যাসিস্ট হতে পারবেন না। কিন্তু আপনারা সেই পথে পা রাখছেন।’

কোনো ফ্যাসিবাদকে বাংলার জমিনে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না উল্লেখ করে জামায়াতের আমির বলেন, ‘ফ্যাসিবাদ কোনো দলের সঙ্গে থাকে না। ফ্যাসিবাদ একটা ভাইরাস। জনগণ আর ফ্যাসিবাদ চায় না। আপনারা তৈরি হন, যেভাবে ২৪ সালে রাস্তায় নেমে এসেছিলেন। হয়তো আবারও রাস্তায় নামতে হবে। জাতির জন্য একবার নয়, শতবার নামব ইনশাআল্লাহ। আমরা দুর্বল নই, যারা জনগণের কাছ থেকে চাঁদা নেয়, তারা দুর্বল।’

জনসমাবেশে আরও বক্তব্য দেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল হালিম, গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মাজেদুর রহমান, গাইবান্ধা-২ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য আবদুল করিম, গাইবান্ধা-৩ (সাদুল্লাপুর ও পলাশবাড়ী) আসনের সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা প্রমুখ।

এর আগে আজ সকাল সোয়া ১০টার দিকে জামায়াতের আমির বোনারপাড়া যান। এরপর তিনি গত ২১ জুন হামলায় নিহত শিবির কর্মী সাইফুল্লাহ বারী ও সালাউদ্দিনের কবর জিয়ারত করেন এবং তাঁদের পরিবারকে সমবেদনা জানান ও আর্থিক সহায়তা করেন।