২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়েছে। নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের সম্মিলিত গড় পাসের হার ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ।
যেসব পরীক্ষার্থী তাদের প্রত্যাশিত ফল পাননি বা কোনো বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছেন, তাদের জন্য শিক্ষা বোর্ড ফল পুনর্নিরীক্ষণ বা বোর্ড চ্যালেঞ্জের সুযোগ দিচ্ছে। ফল পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) এবং শিক্ষার্থীরা ১৭ আগস্ট পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন।
শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এ বিষয়ে বলেন, "পুনর্নিরীক্ষণের আবেদনকারী শিক্ষার্থীদের উত্তরপত্র সম্পূর্ণরূপে পুনরায় মূল্যায়ন করা হবে। এ প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের ত্রুটি ধরা পড়লে তা সংশোধনের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।"
তিনি আরও জানান, "আমাদের বোর্ডের ১৯৯৮ সালের আইন অনুযায়ী খাতা পরিদর্শনের কোনো ব্যবস্থা ছিল না। বর্তমানে আমরা এটি পরিবর্তন করেছি। যেসব শিক্ষার্থী পুনর্নিরীক্ষণের জন্য আবেদন করবেন, তাদের খাতা সম্পূর্ণভাবে পুনপরীক্ষা করা হবে। কোথাও কোনো ভুলত্রুটি হয়ে থাকলে, সেগুলোর বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
আবেদন প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানানো হয়েছে, প্রথমে rescrutiny.eduboardresults.gov.bd ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে হবে। সেখানে নির্ধারিত স্থানে রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিতে হবে। এরপর ড্রপডাউন থেকে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ড নির্বাচন করে ‘সাবমিট’ বাটনে ক্লিক করতে হবে। পরবর্তী ধাপে একটি মোবাইল ফোন নম্বর দিতে হবে, যা পুনর্নিরীক্ষণের ফল প্রকাশের পর এসএমএসের মাধ্যমে জানানো হবে।
শিক্ষার্থীরা এক বা একাধিক বিষয়ের ফলাফল পুনর্নিরীক্ষণের জন্য সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নির্বাচন করে ‘ফি প্রদান করুন’ বাটনে ক্লিক করতে হবে। প্রতিটি পত্রের জন্য ১৫০ টাকা ফি প্রযোজ্য হবে। দ্বিপত্রবিশিষ্ট বিষয়ের ক্ষেত্রে উভয় পত্রের জন্য আবেদন করতে হবে।
ফি পরিশোধের পর আবেদন জমা দিতে ‘জমা দিন’ বাটনে ক্লিক করতে হবে। একবার ফি দিয়ে আবেদন জমা দেওয়ার পর অতিরিক্ত কোনো বিষয় যুক্ত করতে চাইলে একই প্রক্রিয়ায় তা করা যাবে, তবে নতুন করে মোবাইল ফোন নম্বর দেয়ার প্রয়োজন হবে না।
ফি পরিশোধের আগে আবেদন পরিবর্তন বা পরিমার্জনের প্রয়োজন হলে ‘মুছে ফেলুন’ বাটনে ক্লিক করে যেসব বিষয়ের জন্য এখনো ফি দেয়া হয়নি, সেগুলো প্রত্যাহার করা যাবে।
এবার এসএসসির মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১৮ লাখ ৬৭ হাজার ৬১৪ জন। এর মধ্যে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ জন। পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয় ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৭ জন এবং অকৃতকার্য হয় ৬ লাখ ৯০ হাজার ৬০৮ জন। সর্বমোট পাসের হার ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ। জিপিএ-৫ অর্জন করেছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন।