মাদারীপুর সদর থানার ভেতরে হাতকড়া পরা অবস্থায় এক যুবকের টিকটক ভিডিও ধারণ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের উপস্থিতিতেই এমন ভিডিও ধারণ ও প্রকাশের ঘটনায় পুলিশের নজরদারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুরে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ওই ভিডিওতে দেখা যায়, হাতকড়া পরিহিত তানভীর নুসু নামের এক যুবক থানার ভেতরে দাঁড়িয়ে টিকটক ভিডিও করছেন। ভিডিওতে তার আশপাশেই ডিউটি অফিসার, একজন কনস্টেবল ও উপপরিদর্শক (এসআই) ইব্রাহিমসহ অন্যান্য পুলিশ সদস্যদের বসে থাকতে দেখা যায়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৮ থেকে ১০ দিন আগে মাদারীপুর পৌর শহরের কলেজ রোড এলাকায় মারামারির একটি ঘটনায় তানভীর নুসুকে আটক করে থানায় আনা হয়েছিল। পরবর্তীতে যাচাই-বাছাই শেষে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে পুলিশের নজর এড়িয়ে হাতকড়া পরা অবস্থাতেই তিনি ভিডিওটি ধারণ করেন এবং পরে তা নিজের টিকটক অ্যাকাউন্টে প্রকাশ করেন।

পুলিশি হেফাজতে এবং হাতে হাতকড়া থাকা সত্ত্বেও কীভাবে ওই যুবকের হাতে মোবাইল ফোন এল, তা নিয়ে সমালোচনা ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক পুলিশ সদস্য স্বীকার করেছেন যে, দায়িত্বে থাকা সদস্যদের গাফিলতির কারণেই এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটেছে।

ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয় থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

এই অভিযোগের বিষয়ে জানতে উপপরিদর্শক (এসআই) ইব্রাহিমের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

মাদারীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, "থানার ভেতরে টিকটক ভিডিও ধারণের বিষয়ে আমি অবগত নই। খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।"

সার্বিক বিষয়ে মাদারীপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ হাবিবুর রহমানের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।