রংপুরের পীরগাছায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতার নেতৃত্বে চার দিনমজুরের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় ছয়টি গরু, নগদ অর্থ, স্বর্ণালংকার, গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র এবং আসবাবপত্র লুট করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীদের লিখিত অভিযোগ অনুযায়ী, রোববার (৯ আগস্ট) সকাল ১১টার দিকে উপজেলার ছাওলা ইউনিয়নের দামুরস্বর গ্রামে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে এই তাণ্ডব চালানো হয়।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, ছাওলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য ও পাওটানাহাট ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি পশুচিকিৎসক রেজাউল করিম, ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুকুল মিয়া এবং ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আইয়ুব হোসেনের নেতৃত্বে ৭০ থেকে ৮০ জনের একটি দল সিরাজুল ইসলামের বাড়িতে হামলা চালায়।
ভুক্তভোগীদের দাবি, বাড়ির লোকজন সরে যাওয়ার পর হামলাকারীরা ঘরের ফ্রিজ, আসবাবপত্র, সেচযন্ত্র, মোটর ও টেলিভিশনসহ বিভিন্ন মালামাল ভাঙচুর ও লুট করে। এরপর প্রায় ২০০ গজ দূরে সৈয়দ আলী, এরশাদ আলী ও রুবেল মিয়ার বাড়িতেও হামলা চালানো হয়। সেখানে আটটি ঘর ও একটি মোটরসাইকেল ভাঙচুরের পাশাপাশি নগদ টাকা, জমির দলিল, পাসপোর্ট, স্বর্ণালংকার ও ছয়টি গরু নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগী সৈয়দ আলী ও সিরাজুল ইসলাম বলেন, "আমাদের ঘরে এখন থাকার বা খাওয়ার মতো কিছুই অবশিষ্ট নেই। চাল-ডাল তো বটেই, রান্না করা তরকারির পাতিল পর্যন্ত নিয়ে গেছে তারা।" তারা আরও জানান, হামলার সময় গ্রামের বিভিন্ন স্থানে লোকজন পাহারায় থাকায় কেউ তাদের সহায়তায় এগিয়ে আসতে পারেননি।
এলাকার বাসিন্দাদের মতে, দিনের আলোতে প্রকাশ্যে এমন হামলা ও লুটপাটের ঘটনায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। তাদের অভিযোগ, লুট করা একটি গরু জবাই করে হামলাকারীরা এলাকায় ভোজের আয়োজন করেন।
এই অভিযোগের বিষয়ে ইউপি সদস্য আইয়ুব হোসেন ও রেজাউল করিমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা দাবি করেন, ঘটনার সময় তারা এলাকায় ছিলেন না, বরং বাইরে ছিলেন। অন্যদিকে, অপর অভিযুক্ত ইউপি সদস্য মুকুল মিয়ার মোবাইল ফোন নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।
পীরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম মালিক মুক্তকণ্ঠকে বলেন, "জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় দুপক্ষ থেকে দুটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। গরু লুটের অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে মামলা প্রক্রিয়াধীন।"