পারিবারিক শোকের মুহূর্তে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা করতে চেয়েও ব্যর্থ হতে হয়েছে লিওনেল মেসিকে। তার বাবা হোর্হে মেসির শেষকৃত্যের সময় রোজারিওর এল প্রাদো কবরস্থানের আকাশে ড্রোন উড়িয়ে ছবি ও ভিডিও ধারণের চেষ্টা করে বুয়েনস আইরেসভিত্তিক কয়েকটি টেলিভিশন চ্যানেল।
শনিবার রাতে রোজারিওর স্থানীয় সংবাদমাধ্যম লা কাপিতাল জানিয়েছে, টিএন, লা নাসিওন প্লাস ও সি৫এনের ড্রোন কবরস্থানের ওপর উড়তে দেখা গেছে। ওই সংবাদমাধ্যমের দাবি, ড্রোনের ক্যামেরার মাধ্যমে কবরস্থানের ভেতরে মেসি ও তার পরিবারের গতিবিধি অনুসরণ করা হচ্ছিল।
এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে মেসি পরিবার। ড্রোন ওড়ানো বন্ধ করতে পরিবারের প্রতিনিধিরা সান্তা ফে প্রাদেশিক সরকার, নিরাপত্তা মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে কবরস্থান ও সংলগ্ন এলাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে ড্রোন ওড়ানো নিষিদ্ধ করা হয় এবং পুলিশি নিরাপত্তা জোরদার করা হয়।
স্থানীয় সময় শনিবার দুপুর থেকেই এল প্রাদো কবরস্থানে সাধারণ মানুষের প্রবেশ নিষিদ্ধ ছিল। কেবল পূর্ব অনুমতিপ্রাপ্ত গাড়িগুলোকে ভেতরে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হয়। ড্রোন শনাক্ত হওয়ার পর আকাশসীমার নিরাপত্তায় বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
ব্যক্তিগত শোকের মুহূর্তে ক্যামেরার এমন অনুপ্রবেশের ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে। অনেকে একে সাংবাদিকতার নৈতিক সীমার লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করে মেসি পরিবারকে শান্তিতে শোক পালনের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর শুক্রবার রাতে রোজারিওর একটি হাসপাতালে ৬৮ বছর বয়সে মারা যান হোর্হে মেসি। শনিবার স্ত্রী আন্তোনেলা রোকুজ্জো ও তিন ছেলে থিয়াগো, মাতেও ও চিরোকে নিয়ে বিশেষ বিমানে রোজারিও পৌঁছান লিওনেল মেসি।
রোববার দুপুরে এল প্রাদো কবরস্থানে পারিবারিকভাবে হোর্হে মেসির শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন মেসির মা সেলিয়া কুচ্চিত্তিনি, ভাইবোন ও পরিবারের ঘনিষ্ঠজনরা। এছাড়া আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন, লিওনেল স্কালোনির কোচিং দল এবং নিউয়েলস ওল্ড বয়েজের পক্ষ থেকে শোকবার্তা ও ফুলের তোড়া পাঠানো হয়।