এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে এবারও ছাত্রদের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে ছাত্রীরা। পাসের হার এবং জিপিএ-৫ অর্জনের ক্ষেত্রে—উভয় সূচকেই ছাত্রীদের সাফল্য বেশি। চলতি বছরের ফলাফলে ছাত্রদের তুলনায় ১ লাখ ৭ হাজার ৯৮২ জন বেশি ছাত্রী উত্তীর্ণ হয়েছে এবং ১১ হাজার ৪০১ জন বেশি ছাত্রী জিপিএ-৫ পেয়েছে।
সোমবার (১০ আগস্ট) সকাল ১০টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়। অনুষ্ঠানে ফলাফলের বিস্তারিত দিক তুলে ধরেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন।
প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী, চলতি বছর এসএসসি পরীক্ষায় মোট ৭ লাখ ৪১ হাজার ৮৭৬ জন ছাত্রী অংশ নিয়েছিল, যার মধ্যে ৫ লাখ ৩ হাজার ৭৯৬ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। ফলে ছাত্রীদের পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৬৭ দশমিক ৯১ শতাংশে। অন্যদিকে, ছাত্রদের পাসের হার ছিল ৫৯ দশমিক ৭৩ শতাংশ। ফলে পাসের হারে ছাত্রীরা ছাত্রদের চেয়ে ৮ দশমিক ১৮ শতাংশীয় পয়েন্ট এগিয়ে রয়েছে।
উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীর মোট সংখ্যার ক্ষেত্রেও বড় ব্যবধান দেখা গেছে; ছাত্রদের চেয়ে ১ লাখ ৭ হাজার ৯৮২ জন বেশি ছাত্রী এবার পাস করেছে। এছাড়া সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোতে মোট ১ লাখ ৬ হাজার ৯ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে, যার মধ্যে ছাত্রদের তুলনায় ১১ হাজার ৪০১ জন বেশি ছাত্রী এই কৃতিত্ব অর্জন করেছে।
গত বছরও একই চিত্র পরিলক্ষিত হয়েছিল। ২০২৫ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে পাসের হার, উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীর সংখ্যা এবং জিপিএ-৫—তিনটি সূচকেই ছাত্রীরা এগিয়ে ছিল। ২০২৫ সালে সার্বিক পাসের হার ছিল ৬৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১ লাখ ৩৯ হাজার ৩২ জন।
তবে ছাত্র-ছাত্রীদের এই পার্থক্যের পাশাপাশি এবার সার্বিক ফলাফলে অবনতি লক্ষ্য করা গেছে। ২০২৬ সালে গড় পাসের হার কমে দাঁড়িয়েছে ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশে, যা গত বছর ছিল ৬৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ। জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও হ্রাস পেয়েছে। ২০২৫ সালে ১ লাখ ৩৯ হাজার ৩২ জন জিপিএ-৫ পেলেও চলতি বছর এই সংখ্যা কমে হয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২২ হাজার ৩৫৬ জন কমেছে।
নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, চলতি বছর এসব বোর্ডে গড় পাসের হার ৬৪ দশমিক ০৫ শতাংশ, যা গত বছর ছিল ৬৮ দশমিক ০৪ শতাংশ। অর্থাৎ এক বছরে পাসের হার কমেছে ৩ দশমিক ৯৯ শতাংশীয় পয়েন্ট।
ফলাফল প্রকাশের পর এখন শিক্ষার্থীদের সামনে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির প্রস্তুতি। শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, এবারও এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে আগের পদ্ধতিতেই একাদশ শ্রেণিতে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে। ব্যক্তিগত ফলাফল যাচাই করতে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সরকারি পোর্টাল ব্যবহার করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।