প্রেমিক মিলবে প্রেমিকার সাথে ঠিক-ই, কিন্তু শান্তি পাবে না—পাবে না—পাবে না…
—সঙ্গতি, শহীদ কাদরী
এক মানুষের সঙ্গে অপর মানুষের সম্পর্কের বর্তমান হালহকিকত নিয়ে এক কবির কাছ থেকে খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি কথা শুনেছিলাম। কথাটি তাঁর নিজের নয়। তিনিও শুনেছেন অন্য কারও কাছ থেকে। সেই উৎসটা কোথা থেকে—তা জানা নেই। হতে পারে কথাটি তাঁর নিজের ভাবনাপ্রসূত; অথবা এটিও হতে পারে আরেকজনের কাছ থেকে পাওয়া।
তবু কথাটি একই রকম: আমরা কেবলই দেয়াল রচনা করি, সেতু রচনা করতে পারি না।
আমার মনে হয়, বর্তমান সময়ের অধিকাংশ মানবসম্পর্কের ক্ষেত্রেই এই কথাটি কম-বেশি সত্য। দিনে দিনে—ব্যক্তিগত কিংবা সামষ্টিক, এমনকি রাজনৈতিক পরিসরেও—দুই বা ততোধিক মানুষের বা সমাজের মধ্যে একটা বিভাজনরেখা বড় হতে থাকে। ক্রমে যেন বিভাজন আর শত্রুতা ছাড়া আর কিছুই মানুষের জীবনে টিকে থাকে না। শত্রুতার জন্যই যেন আমরা এই পৃথিবীতে আসি। একের সঙ্গে অন্যের শত্রুতা যেন ধীরে ধীরে ঘনীভূত হয়। এই শত্রুতাই যেন মানুষের কর্তাসত্তা গঠনের একমাত্র শর্ত হয়ে দাঁড়ায়।
ফরাসি তাত্ত্বিক রনে জিরার এ বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেছেন, ‘বিকজ দ্য মোমেন্ট উইল কাম হোয়ার মিমেটিক রিভালরি বিটুইন ইয়োর ব্রাদার অ্যান্ড ইউ উইল পুট ইউ ইন আ সিচুয়েশন হোয়ার আইদার হি কিলস ইউ অর ইউ কিল হিম।’
.রনে জিরারের বক্তব্য রূঢ় শোনাতে পারে। তবু প্রশ্ন ওঠে—আসলেই কি ব্যাপারটা তাই নয়? অন্তর্গত দ্বন্দ্ব শেষ পর্যন্ত কি এমন এক জায়গায় গিয়ে দাঁড়ায়, যেখানে ভাইয়ের সঙ্গে ভাইয়ের, বন্ধুর সঙ্গে বন্ধুর, প্রেমিকের সঙ্গে প্রেমাস্পদের, এক লেখকের সঙ্গে আরেক লেখকের, এক বুদ্ধিজীবীর সঙ্গে আরেক বুদ্ধিজীবীর, এক রাজনীতিবিদের সঙ্গে আরেক রাজনীতিবিদের দ্বন্দ্ব একটি অনন্ত দ্বন্দ্বের দিকে ধাবিত হয়? এবং একসময় তা এমন রূপ নেয় যে হয় আপনি অন্যকে খুন করবেন, নয়তো অন্য কেউ আপনাকে খুন করবে।
এই খুনের অর্থ আক্ষরিকও হতে পারে, আবার রূপকও। দ্বন্দ্ব কখনো কখনো সত্যিই খুনোখুনির দিকে যায়। আবার কখনো দ্বন্দ্ব এমন পর্যায়ে পৌঁছে যে আমরা কেউ আর কারও দিকে তাকাতে পারি না। এটাও এক ধরনের খুনই বটে।
খুব বাজে একটি উদাহরণ দিই। বিশ্ববিদ্যালয়জীবনে আমি এক ছাত্র পড়াতাম। পড়ানোর পাশাপাশি আরেক দায়িত্ব ছিল তার আচরণগত পরিবর্তনে নানা পরামর্শ দিয়ে সহায়তা করা। সে সময়ে আমি নিজেও বয়সে নবীন, তবু তার পিতা-মাতা আমাকে এই দায়িত্ব দেন। তাঁদের মতে, সন্তান বেলাইনে চলে যাচ্ছে, তাকে কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। পিতা-মাতা—দুই পক্ষই—তাদের সন্তানের ব্যাপারে একপ্রকার ব্যর্থ। তাই আমার পরামর্শ দরকার বলে তাঁরা ধরে নেন।
আমি তাঁদের কথামতো তাকে বোঝাতে চেষ্টা করতাম—কেন প্রতিদিন বিলিয়ার্ড খেলতে যাওয়া ঠিক নয়, কেন বাবা-মায়ের কথা শোনা উচিত ইত্যাদি বিষয়ে। আমাকে তা করতে হতো বেশ সতর্কভাবে, যেন আমার প্রতিও সে বিরূপ না হয়ে পড়ে। এর মধ্যে একদিন পড়াতে গিয়ে দেখি টেবিলের পাশে একটা ক্রিকেট স্টাম্প। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, এই স্টাম্প এখানে কেন? সে বলল, এটা তার পিতাকে মারার জন্য এখানে রাখা হয়েছে।
আমি কিছুক্ষণ তার দিকে তাকিয়ে থাকলাম। বলে দেওয়ার মতো কোনো ভাষা খুঁজে পেলাম না। এরপর কিছুদিনের মধ্যেই ভদ্রলোক মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়েন। জানি না, এত দিনে তিনি বেঁচে আছেন কি না।
একটা বিষয় তাহলে সামনে আসে—দশম শ্রেণিপড়ুয়া একজন ছাত্রের পিতার সঙ্গে দ্বন্দ্ব, কিংবা পিতাকে শত্রু গণ্য করার মতো মানসিকতার উৎস আসলে কোথায়? এর দায় কি কেবল তার একার, নাকি তার পরিবার কিংবা পারিপার্শ্বিকেরও দায় আছে?
পরিবার নামক মহান যে প্রতিষ্ঠান, সেটার দিকে তাকালে দেখা যায়—এ ধরনের ঘটনাই নিয়মিত ঘটে। ধীরে ধীরে পরিবারের এক মানুষ আরেক মানুষের সঙ্গে দ্বন্দ্ব-সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে, একে অপরের চক্ষুশূল হয়ে ওঠে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যেও দেয়াল বাড়তে বাড়তে সপ্ত আসমান ভেদ করে যায়। পত্রপত্রিকায় মাঝেমধ্যে কোনো স্ত্রী কিংবা স্বামী কিংবা পরিবারসহ কারও আত্মহত্যার খবর দেখা গেলে কারণ হিসেবে এই সুবিশাল দেয়ালটাই যেন চোখের সামনে ভেসে ওঠে। কেউ কাউকে বুঝতে না পেরে, দ্বন্দ্ব বাড়াতে বাড়াতে, আত্মবিসর্জনের পথই যেন তাদের একমাত্র বিকল্প হয়ে দাঁড়ায়।
দ্বন্দ্বের কারণেই কেবল তা ঘটে—এভাবে নিশ্চিত করে বলা যাবে না। অভাব-অনটন, আর্থসামাজিক পরিস্থিতিও হয়তো কাজ করে। তবু দ্বন্দ্ব যে কারও কারও ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখে—এ কথা অস্বীকার করা কঠিন।
পরিসংখ্যানে দেখা যায়, দেশে বিবাহবিচ্ছেদের সংখ্যা বাড়ছে। কিন্তু বড় প্রশ্ন হলো—যেসব বিয়ে টিকে আছে, তারা ঠিক কী রকমভাবে টিকে আছে? প্রশ্নটা প্রথমে স্থূল মনে হতে পারে। তবু প্রশ্নটি জরুরি, কারণ উত্তরটার মধ্যেই নিহিত থাকে আমাদের আগত ও অনাগত সন্তানদের ভবিষ্যৎ। বিচ্ছেদ যেমন শিশুর মনস্তত্ত্বে বিরূপ প্রভাব ফেলে, তেমনি টিকে থাকা টক্সিক সম্পর্কও তাকে ক্রমাগত ক্ষতিগ্রস্ত করে।
.দার্শনিক ফ্রেডরিখ নিৎশে এক জায়গায় বলছিলেন, বিয়ে মূলত আলাপের ব্যাপার। যার সঙ্গে আলাপে আপনার ক্লান্তি আসে না, তার সঙ্গেই আপনার বিয়ে হয়েছে বলে ধরে নেওয়া যায়। অন্যান্য বিয়েকে তিনি নিছক কিছু জৈবিক ও পারিবারিক প্রয়োজনের বাইরে কিছু বলে মনে করেননি। সেই আলাপ বা সংলাপের জায়গা কি আদৌ তৈরি হয়? আমরা কি সত্যিই কারও কথা শুনি? শুনতে চাই? নাকি মনোলগই হয়ে ওঠে আমাদের একমাত্র আরাধ্য?
রাস্তা দিয়ে হাঁটার সময় যখনই কোনো মানুষকে বিষণ্ন বা অপ্রকৃতিস্থ বা অসুস্থ দেখি, তখনই মস্তক ঘুরপাক খায়—তার এই দশার কারণটা কী হতে পারে। বেশির ভাগ সময় উত্তর এসে দাঁড়ায় পরিবার কিংবা অফিস নামের দুই প্রতিষ্ঠানকে ঘিরে। মানবের রোগশোকে এই দুই প্রতিষ্ঠান বড় ভূমিকা রাখে—এমন ধারণাও জন্মায়। শহরের মানুষ জীবনের প্রায় শতভাগ সময় কাটায় এই দুই জায়গাতেই। অথচ এই দুই জায়গাতেই সম্পর্কগুলো বিরূপ হতে হতে শত্রুতার দিকে ধাবিত হয়, ব্যক্তিকে ভেতর থেকে অন্তঃসারশূন্য করে দেয়। এই চাপেই একসময় দেহঘড়ি সময়ের আগেই থমকে যায়। শরীরে বাসা বাঁধে নানা রোগশোক।
কথাটা এখানে একটি অনুমান মাত্র—অকাট্য প্রমাণ হাজির করা সম্ভব নয়। তা ছাড়া সবার ক্ষেত্রে তা ঘটে—এমনও নয়। সবার ক্ষেত্রেই যে পরিবার কিংবা অফিস ক্ষতিকর—তাও নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। এসব সম্ভাবনা মাথায় রেখেই কথাগুলো বলা।
.দেশের রাজনীতির দিকেও তাকালে একই চিত্র দেখা যায়। অনন্ত শত্রুতার দিকে ধাবিত হচ্ছে দেশের রাজনীতি। সম্পর্ক বা সংলাপের দূরত্বও যেন কোথাও নেই—কে কাকে খুন করে নিজের টিকে থাকা নিশ্চিত করবে, রাজনীতির প্রধান ব্রত হয়ে উঠছে সেই ভাবনা। আমরা ধীরে ধীরে এক ধরনের খুনোখুনির রাজনীতির দিকে এগোচ্ছি। নতুন-পুরোনো সবার মধ্যেই যেন একই প্রবণতা। চারদিকে তালিকাভুক্ত করা হচ্ছে—কে কাকে খুন করবে, কাকে ফাঁসিতে ঝুলাবে।
এই অনন্ত দ্বন্দ্ব বা খুনোখুনির দিকে যে যাত্রা, তাকে ঠেকানো যাবে কী করে? সমাধান জিরার নিজেই বাতলাচ্ছেন—স্যাক্রিফাইস। হয় আপনি স্যাক্রিফাইস করবেন, না হয় আপনি খুন হওয়ার বা খুন করার শর্তকে ক্রমাগত পরিবর্ধিত করতে থাকবেন। কিন্তু সেই স্যাক্রিফাইস কি কেউ করতে রাজি হয়? ক্ষোভ লালন করতে করতে আমরা এমন এক দশায় অবতীর্ণ হই যেখানে গিয়ে স্যাক্রিফাইস শব্দটা আমাদের কাছে পুরোপুরি অপরিচিত হয়ে ওঠে। আমরা ভুলে যাই—এ রকম একটি শব্দও জগৎ কিংবা অভিধানে বিদ্যমান।
সব পরিসরে দ্বন্দ্বসংঘাত, সংলাপহীনতা ও টক্সিক সম্পর্কের সবচেয়ে খারাপ ফল হতে পারে একটি ট্রমাক্রান্ত পরিবেশ। এ ধরনের পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যারা দিনাতিপাত করে, তারা শেষ পর্যন্ত ট্রমার সাগরে নিমজ্জিত হয়ে পড়তে পারে। মনোবিশারদ সিগমুন্ড ফ্রয়েডের বক্তব্য অনুযায়ী—এ ধরনের ট্রমা মানুষের অজ্ঞানজুড়ে স্থায়ী আসন গেড়ে বসে এবং ট্রমাটিক নিউরোসিসের সূত্রপাত ঘটায়। সেই সূত্রপাত জীবনের নানা মুহূর্তে রিপিটেশন কম্পালশন বা ট্রমার পুনরাবৃত্তি আকারে ব্যক্তির জীবনে ফিরে আসে। সহজ করে বললে, যে মানুষ ট্রমায় আক্রান্ত, সে জীবনভর ওই ট্রমাকেই পুনরুৎপাদন করতে থাকে—বিভিন্ন বিকৃতির মধ্য দিয়ে।
রিপিটেশন কম্পালশন বা ট্রমার পুনরাবৃত্তির ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে ফ্রয়েড তাঁর ‘বিয়ন্ড দ্য প্লেজার প্রিন্সিপাল’ নামের গ্রন্থে ষোলো শতকের ইতালীয় কবি তোরকোয়াতো তাসোর ‘জেরুজালেম ডেলিভারড’ বা ‘জেরুজালেম উদ্ধার’ কাব্যের শরণাপন্ন হন। এই কাব্যে ক্রুসেড যুদ্ধের বড় যোদ্ধা টানক্রিডের হাতে খুন হন তাঁরই প্রেমিকা, আরেক বীরযোদ্ধা ক্লোরিন্ডা। বর্ম পরা অবস্থায় যুদ্ধের ময়দানে তাঁরা কেউ কাউকে চিনতে পারেননি। সারা রাত ধরে চলে তাদের দ্বৈরথ এবং একপর্যায়ে টানক্রিডের তরবারি গিয়ে বিঁধে ক্লোরিন্ডার বুকে। মৃত্যুপথযাত্রী ক্লোরিন্ডা মৃত্যুর আগে তার খুনিকে অনুরোধ করেন তাকে যেন ব্যাপ্টাইজ করা হয়। সে উদ্দেশ্যে টানক্রিড তাঁর হাতে খুন হওয়া যোদ্ধার শিরস্ত্রাণ খুলে দেখেন—এ তাঁরই প্রেমিকা ক্লোরিন্ডা!
ঘটনার পর কিছুদিন দুর্গ নির্মাণের কাজে টানক্রিডের বাহিনীর কাঠের প্রয়োজন পড়ে। কিন্তু পাশের যে বন থেকে তারা কাঠ সংগ্রহ করবে, তা বশ করে রেখেছে কুহকি ইসমেনো। সেই বনে এখন ভূতপ্রেতের আনাগোনা। সৈন্যরা যেন ভয়ে এ বনে প্রবেশ করতে না পারে, তাই এ ব্যবস্থা করে রেখেছে ইসমেনো। ভয়কে জয় করতে এবং নিজের বীরত্ব প্রমাণে টানক্রিড একাই সে বনে প্রবেশ করে এবং এক বশীভূত বিশালাকার দেবদারুগাছকে তার তরবারি দিয়ে সজোর আঘাত করে। এরপর ঘটে সেই রহস্যময় (ফ্রয়েডের ভাষায়, আনক্যানি) ঘটনা। গাছের ভেতর থেকে নির্যাস বের হওয়ার পরিবর্তে ফিনকি দিয়ে বের হয়ে আসে রক্ত। সেই সঙ্গে ক্লোরিন্ডার স্বর—‘টানক্রিড, আমার বিশ্রামের স্থলেও তোমার আক্রমণ করা লাগল! আমাকে তুমি দ্বিতীয়বার খুন করলে!’
এ ঘটনার পর স্তম্ভিত টানক্রিড তার অস্ত্র ফেলে যুদ্ধ অসমাপ্ত রেখেই পালিয়ে যায়।
ট্রমায় আক্রান্ত মানুষের মনস্তত্ত্ব কীভাবে কাজ করে এবং রিপিটেশন কম্পালশন কীভাবে ঘটে—তা বোঝার উদাহরণ হিসেবে ফ্রয়েড টানক্রিডের এ ঘটনাকে গ্রহণ করেছেন।
ফ্রয়েডের মতে, ট্রমা বা রিপিটেশন কম্পালশনে আক্রান্ত মানুষ সব সময় মনে করে সে হয়তো অভিশপ্ত অথবা তার কপাল খারাপ। কিন্তু আসলে যা ঘটে, মানুষের অজ্ঞান বা অচেতন মন তার আগের টক্সিক সম্পর্ক কিংবা খারাপ ঘটনাগুলোর দিকে তাকে ফিরিয়ে নিতে চায়। টানক্রিড চেয়েছিল বনের ভয়কে জয় করতে। কিন্তু তার অজ্ঞান তার আগের অপরাধবোধের কাছে তাকে ফিরিয়ে নিয়ে যায়।
আমাদের পরস্পরের মধ্যে রচিত দেয়াল সবচেয়ে বেশি ক্ষত্রিগ্রস্ত করছে আমাদের সন্তানদের। একটা বিশালাকার ট্রমা তাদের মনে স্থায়ী আসন গেড়ে বসছে। ট্রমাকে সচেতনভাবে পোষার পক্ষে বলছি না। কিন্তু যে ট্রমা তার অজ্ঞানজুড়ে স্থান দখল করছে, সেটি কাটাবেই বা কীভাবে? এই ট্রমার পুনরাবৃত্তি হিসেবে যখন নানা ধরনের বিকৃতি আমরা দেখব, তখন নিশ্চিতভাবেই সেই বিকৃতির কারণ খতিয়ে দেখার প্রয়োজন কেউ বোধ করবে না। সবাই ভাববে এ একজন বিকৃত মানুষ—তাকে কতল করা হোক, নিদেনপক্ষে সমাজচ্যুত করা হোক। কিন্তু এর মধ্য দিয়ে আরও আরও বিকৃতির আগমন কি ঠেকানো যাবে?