জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশ ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হলেও খুলনায় সংগঠনটির অনলাইন তৎপরতা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন পেজ, গ্রুপ এবং ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে রাজনৈতিক বক্তব্য, সাংগঠনিক অবস্থান এবং কর্মসূচির আহ্বান জানিয়ে পোস্ট করছেন আত্মগোপনে থাকা নেতারা। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, নিষিদ্ধ এই সংগঠনের সব ধরনের কর্মকাণ্ড কঠোর নজরদারিতে রয়েছে এবং পরিস্থিতি রক্ষায় তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

খুলনা জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি পারভেজ হাওলাদারের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টে দলের বিভিন্ন কর্মসূচি ও রাজনৈতিক বক্তব্য শেয়ার করতে দেখা গেছে। এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘শেষ দিন পর্যন্ত সংগঠনের হয়ে কাজ করতে পেরেছি—এই তৃপ্তি নিয়েই আজীবন একজন কর্মী হয়ে থাকব।’ একইভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় রয়েছেন জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ইমরান হোসেনও।

কেবল অনলাইন প্রচার নয়, নিষিদ্ধ ঘোষণার পরও সংগঠনটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের রাজনৈতিক বক্তব্য ও সাংগঠনিক অবস্থান তুলে ধরার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। সংগঠনটির নেতাদের দাবি, অনলাইনের পাশাপাশি বিভিন্ন কৌশলে অফলাইনেও তাদের কার্যক্রম চলছে। খুলনা মহানগর ছাত্রলীগের সহসভাপতি রনবীর বাড়ই সজল বলেন, “অবশ্যই আমাদের কার্যক্রম চলমান। এটা শুধু অনলাইন নয়, অফলাইনেও আমরা বিভিন্নভাবে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি।”

অন্যদিকে খুলনা জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি পারভেজ হাওলাদার বলেন, “শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশকে উদ্ধার করার জন্য আমাদের সংগ্রাম চলবে। সরকার ও পুলিশকে বলব, এত বড় একটি দলকে আপনারা যেভাবে ধামাচাপা দেওয়ার বা মুছে ফেলার চেষ্টা করছেন, তা সফল হবে না।”

নিষিদ্ধ সংগঠনের এমন তৎপরতার বিষয়ে খুলনা মহানগর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও খুলনা জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট শেখ নুরুল হাসান রুবা বলেন, “নিষিদ্ধ সংগঠনের সব ধরনের কার্যক্রমই বেআইনি। তারা অনলাইন কিংবা অফলাইনে যে ধরনের কার্যক্রমই পরিচালনা করুক না কেন, সেটি নিষিদ্ধ হিসেবেই বিবেচিত হবে। এ ধরনের কার্যক্রমের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তাৎক্ষণিক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার (সিটিএসবি) মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন জানান, অনলাইনে নিষিদ্ধ ছাত্রসংগঠনের তৎপরতা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নজরদারিতে রয়েছে এবং তাদের কার্যক্রম নিয়মিত মনিটর করা হচ্ছে। আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেপ্তার কার্যক্রম চলছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের কঠোর ব্যবস্থা নেবে পুলিশ।

র‌্যাব-৬-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নিস্তার আহমেদ বলেন, “নিষিদ্ধ সংগঠনের কেউ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিঘ্নিত করার চেষ্টা করলে বা তাদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা থাকলে পুলিশকে প্রয়োজন অনুযায়ী সহযোগিতা করে র‌্যাব। পুলিশের কাছ থেকে তথ্য বা গ্রেপ্তার অভিযানে সহায়তার অনুরোধ এলে র‌্যাব সদস্যরা অভিযান পরিচালনা ও আসামি গ্রেপ্তারে সহায়তা করে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করে।”

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার সাজ্জাদুর রহমান বলেন, “নিষিদ্ধ ছাত্রসংগঠনের যেকোনো ধরনের তৎপরতার বিরুদ্ধে পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে। আমরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।”