পটুয়াখালীর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তেলাপোকার ব্যাপক উপদ্রবে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন চিকিৎসাধীন রোগী ও তাদের স্বজনরা। হাসপাতালের ওয়ার্ড, করিডোর, রোগীর বেড, দেয়াল এমনকি খাবার রাখার স্থানেও তেলাপোকার অবাধ বিচরণ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এতে রোগীদের স্বাভাবিক বিশ্রাম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ।
হাসপাতাল সংশ্লিষ্ট সূত্র ও চিকিৎসাধীন রোগীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত প্রায় এক মাস ধরে হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে তেলাপোকার উপদ্রব অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে রোগীদের বেড, গদি ও বিছানার নিচেই সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে এসব পতঙ্গ। অনেকের মতে, হাসপাতালের বেশ কিছু অংশ বর্তমানে তেলাপোকার স্থায়ী আবাসস্থলে পরিণত হয়েছে।
ভুক্তভোগী রোগীদের অভিযোগ, রাতের বেলা তেলাপোকা সরাসরি শরীরের ওপর উঠে আসে, এমনকি অনেক সময় মুখের কাছেও চলে যায়। খাবারের পাত্রেও তেলাপোকা ও সেগুলোর বিষ্ঠা পাওয়ার ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটছে, যা রোগীদের মধ্যে আতঙ্ক ও চরম অস্বস্তি তৈরি করেছে।
শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি ছয় মাস বয়সী শিশু সায়মুন ইসলামের মা সুমি আক্তার বলেন, "এর আগেও একবার সন্তানকে নিয়ে এই হাসপাতালে এসেছিলাম। তখনও বিভিন্ন জায়গায় তেলাপোকার উপদ্রব লক্ষ্য করেছি, তবে বর্তমানে পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। হাসপাতালের এমন পরিবেশের কারণে চিকিৎসা নিতে এসে উল্টো নতুন রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। রাতে ঘুমাতেও ভয় করে; সারাক্ষণ সন্তানের দিকে নজর রাখতে হয়, যাতে কোনো তেলাপোকা গায়ে বা বিছানায় উঠতে না পারে।"
অন্যদিকে, পুরুষ সার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি সুমন ব্যাপারী আক্ষেপ করে বলেন, "বিছানার তোশক তুললেই চারপাশ থেকে অসংখ্য তেলাপোকা বের হয়ে আসে। একদিন দুপুরে খাবারের ভেতরেও তেলাপোকার বিষ্ঠা দেখতে পেয়েছি, যার পর আর সেই খাবার খাওয়া সম্ভব হয়নি। পুরো হাসপাতালের এমন কোনো জায়গা খালি নেই, যেখানে তেলাপোকা চোখে পড়ে না।"
এই পরিস্থিতি প্রসঙ্গে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. দিলরুবা ইয়াসমিন লিজা জানান, আগের তুলনায় সম্প্রতি হাসপাতালে তেলাপোকার সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। এগুলো নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত ওষুধ স্প্রে ও ন্যাফথালিন ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে তিনি আরও জানান, স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে পর্যায়ক্রমে ওয়ার্ডগুলো সাময়িকভাবে খালি করে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা ও কার্যকর কীটনাশক প্রয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের বিষয়েও কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।