তুর্কি ক্লাব ত্রাবজোনস্পোরের হয়ে ক্যারিয়ারের নতুন যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছেন মোহাম্মদ সালাহ। তবে এই সময়েই এক পুরোনো আইনি জটিলতায় পড়লেন মিসরীয় এই ফরোয়ার্ড। বকেয়া আইনি ফি পরিশোধের একটি মামলায় তাঁকে সশরীর আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন মিসরের নিউ কায়রো কোর্ট অব ফার্স্ট ইনস্ট্যান্সের দেওয়ানি বেঞ্চ।

আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের একটি মামলায় আগামী ৬ সেপ্টেম্বর সালাহকে উপস্থিত হতে হবে। আইনজীবী আমর ফারাগ আল্লাহ মোর্সি আবদেল তাওয়াবের দায়ের করা পাওনা দাবির প্রেক্ষিতে এই আদেশ জারি করা হয়েছে।

অভিযোগকারী আইনজীবীর দাবি, বিগত বছরগুলোতে তিনি সালাহর পক্ষে বিভিন্ন আইনি, প্রশাসনিক ও পরামর্শমূলক কাজ করার পাশাপাশি আদালতের নথিপত্র সামলেছিলেন। তবে এসব কাজের বিপরীতে তাঁর প্রাপ্য বকেয়া ফি পরিশোধ করা হয়নি।

অন্যদিকে, মামলার আরজিতে উল্লিখিত কাজ এবং বকেয়া থাকার দাবি পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন সালাহ। মিসরীয় তারকার এই অস্বীকৃতির সত্যতা যাচাই করতেই আদালত তাঁকে সশরীর হাজির হয়ে ‘শপথ’ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। অর্থাৎ, আরজিতে তিনি যা দাবি করেছেন, তা শপথের মাধ্যমে নিশ্চিত করতে হবে।

আদালত সতর্ক করে জানিয়েছে, সালাহ যদি হাজির হয়ে শপথ নিতে ব্যর্থ হন কিংবা উপযুক্ত কারণ ছাড়া তা অস্বীকার করেন, তবে তাঁকে ‘শপথ গ্রহণে অস্বীকৃতি জানানো ব্যক্তি’ হিসেবে গণ্য করা হবে। সেক্ষেত্রে ধরে নেওয়া হবে তিনি দাবি মেনে নিয়েছেন এবং রায় তাঁর বিপক্ষে যেতে পারে। তবে আপাতত বিরোধ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত রায় স্থগিত রেখেছেন বিচারক।

এই আইনি লড়াইয়ের সূত্রপাত ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে, যখন বকেয়া ফি দাবি করে সালাহর বিরুদ্ধে মামলা করেন ওই আইনজীবী। আদালতের নথিপত্র অনুযায়ী, ২০১২ সালে সালাহর দেওয়া একটি সাধারণ অফিশিয়াল পাওয়ার অব অ্যাটর্নির ভিত্তিতে কাজ করতেন তিনি, যার মেয়াদ ২০২৫ সালের আগস্ট পর্যন্ত বহাল ছিল। পরবর্তীতে তাঁকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। বকেয়া ফি না পাওয়ায় আর্থিক ও মানসিক ক্ষতিপূরণও দাবি করেছেন ওই আইনজীবী।

সম্প্রতি লিভারপুল ছেড়ে তুর্কি ক্লাব ত্রাবজোনস্পোরে যোগ দিয়েছেন সালাহ। ১৫ আগস্ট কাশিমপাশার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে তুর্কি লিগে তাঁর অভিষেক হতে পারে। এরপর ৬ সেপ্টেম্বর গেনচলেরবিরলিগির বিপক্ষে মাঠে নামার কথা রয়েছে তাঁর। তবে ঠিক একই দিনে মিসরের আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ পাওয়ায় ক্যারিয়ারের নতুন অধ্যায়ের শুরুতেই বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়লেন সালাহ।