রাষ্ট্রপতি পদে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১–দলীয় ঐক্যের প্রার্থী হিসেবে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ মনোনীত হওয়ার পর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন দলটির শীর্ষ নেতা।

১১ দলীয় ঐক্যের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে অলি আহমদ বলেন, ‘একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে এবং পরীক্ষিত একজন লোক যার বিরুদ্ধে দুর্নীতির কোনো অভিযোগ নাই, শিক্ষাগত যোগ্যতার কোনো অভিযোগ নাই, সুন্দরভাবে জীবনযাপন করেছি বিধায় সবাই সর্বসম্মতিক্রমে আমার নাম প্রস্তাব করেছে।’ তিনি জাতি, ১১ দলীয় ঐক্যজোট ও সব নেতা–কর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

তিনি আরও বলেন, প্রার্থী চূড়ান্ত করার মাধ্যমে ১১ দলীয় ঐক্য জনগণকে বার্তা দিতে চায় যে, কর্নেল অলি দেশের অভিভাবকত্বের যোগ্য। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশগ্রহণই একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা উল্লেখ করে অলি আহমদ বলেন, গণতন্ত্রের জন্যও এই প্রক্রিয়া প্রতিযোগিতামূলক ও অংশগ্রহণমূলক হওয়া উচিত।

জনগণের পাশে সবসময় তাঁদের স্বার্থরক্ষার জন্য দাঁড়াবেন বলেও জানান অলি আহমদ।

আজ রোববার রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে ১১–দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়। বৈঠকের পর দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটের দিকে সংবদ সম্মেলন করেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।

প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে জামায়াতের আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান সংবাদ সম্মেলনে যোগ দিয়ে বলেন, ‘গণতন্ত্রের সৌন্দর্যের জন্যে এটা (রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী দেওয়া) দায়িত্ব হিসেবে আমরা নিয়েছি। আমরা মনে করি যে, সর্বক্ষেত্রে রাজনীতি স্বচ্ছ হওয়া উচিত, প্রতিদ্বন্দিতামূলক হওয়া উচিত। তাহলে গণতন্ত্রের গতি ফিরে আসবে।’

বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, বিএনপি সংস্কারের পথে হাঁটলে ঐক্যবদ্ধভাবে ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দল মিলে এককভাবে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী দেওয়া যেত। কিন্তু তারা সেটা করেনি। এ জন্য ১১–দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে আলাদাভাবে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী দেওয়া হচ্ছে।

এক প্রশ্নের জবাবে নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হলে তখন ব্যক্তির চেয়ে প্রক্রিয়া বেশি গুরুত্বপূর্ণ হতো। বিএনপি এই প্রক্রিয়া পরিবর্তন না করে রাষ্ট্রপতি পদটাকে দলীয় ব্যাপার হিসেবে নিয়েছে।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেন, যোগ্য একজন প্রার্থীকে মনোনয়ন দিতে পারায় তাঁরা আনন্দিত। অলি আহমদ রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে আগামীর বাংলাদেশকে সঠিক ধারায় নেতৃত্ব দিবেন বলে আশাপ্রকাশ করেন তিনি।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের লক্ষ্যে তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তফসিল অনুসারে, মনোনয়নপত্র বিক্রি শুরু হয়েছে। আগামী ১৩ আগস্ট মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন। এরপর যাচাই–বাছাই হবে। ১৮ আগস্ট মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন। জাতীয় সংসদের অধিবেশনকক্ষে ভোট গ্রহণ ২০ আগস্ট।

সংবিধান অনুসারে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেবেন সংসদ সদস্যরা। প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রেও একজন সংসদ সদস্যের সমর্থন ও প্রস্তাব প্রয়োজন হয়।