জাতীয় দলের পথ ধরে বাংলাদেশের বয়সভিত্তিক ফুটবল দলগুলোতেও প্রবাসী এবং বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ফুটবলারদের অন্তর্ভুক্তি বাড়ছে। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ জাতীয় যুব ফুটবল দলের ক্যাম্পে যোগ দিয়েছেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড একাডেমির সাবেক ফুটবলার বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ফরোয়ার্ড অ্যাডাম আব্বাস। গতকাল সকালে ঢাকায় পৌঁছানোর পর বিকেলে তিনি যশোর শামসুল হুদা একাডেমিতে দলের ক্যাম্পে যোগ দেন।
আগামী ৩১ আগস্ট থেকে ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপের বাছাইপর্ব অনুষ্ঠিত হবে। টুর্নামেন্টের ‘বি’ গ্রুপে খেলবে বাংলাদেশ। উজবেকিস্তানের তাসখন্দে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের তিনটি ম্যাচ নির্ধারিত হয়েছে। ৩১ আগস্ট উজবেকিস্তান, ৩ সেপ্টেম্বর সিরিয়া এবং ৬ সেপ্টেম্বর ভারতের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ।
অনূর্ধ্ব-২০ দলের ক্যাম্পে শুরুতে তিন প্রবাসী ফুটবলার যোগ দিলেও চোটের কারণে ইতালিপ্রবাসী উইঙ্গার তানজিল ও সুইজারল্যান্ড প্রবাসী উইঙ্গার সাফওয়ান ক্যাম্পে থাকতে পারেননি। এছাড়া প্রয়োজনীয় কাগজপত্র গোছাতে সময় লাগায় ইংল্যান্ড প্রবাসী কালিম ইসলাম ফিরে গেছেন। অন্যদিকে, গত সাফে খেলা যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী রোনান ও ডেকলান সুলিভানকে তাঁদের বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়পত্র না দেওয়ায় এবারের ক্যাম্পে আনা সম্ভব হয়নি। ইংল্যান্ড থেকে আরও একজন ফুটবলার আসতে পারেননি।
বর্তমানে সব মিলিয়ে পাঁচজন প্রবাসী বা বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ফুটবলার ক্যাম্পে অবস্থান করছেন। তাঁদের মধ্যে তিনজন ইংল্যান্ডপ্রবাসী—ডিফেন্ডার জিদান ইউসুফ, স্ট্রাইকার মোহাম্মদ মাহি খান ও উইঙ্গার অ্যাডাম আব্বাস। বাকি দুজন হলেন অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী ঈশান মালিক ও যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী স্ট্রাইকার ফারজাদ আফতাব।
সদ্য যোগ দেওয়া অ্যাডাম আব্বাসকে নিয়ে ফুটবল মহলে বাড়তি কৌতূহল তৈরি হয়েছে। তাঁর নানা-নানি বাংলাদেশি। ব্রিটিশ মা ও জ্যামাইকান বাবার সন্তান অ্যাডাম বিখ্যাত ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের একাডেমিতে প্রায় চার বছর ছিলেন এবং বার্নলির অনূর্ধ্ব-১৮ দলেও খেলেছেন। তবে চোটের কারণে বার্নলির সঙ্গে তাঁর চূড়ান্ত চুক্তি হয়নি।
উল্লেখ্য, গত এপ্রিলে মালদ্বীপে অনুষ্ঠিত সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ভারতকে টাইব্রেকারে ৪-৩ ব্যবধানে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল বাংলাদেশ। ওই ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী রোনান সুলিভানের পানেনকা শটে জয় নিশ্চিত হয় এবং টুর্নামেন্টে তিনি বিশেষ নজর কাড়েন।
দেড় মাস আগে দায়িত্ব নেওয়া ইংল্যান্ডের প্রধান কোচ জেরার্ড জোনসের অধীনে যশোরের ক্যাম্পে একজন বিদেশি ফিটনেস ট্রেনার ও একজন গোলকিপিং কোচ রয়েছেন। প্রাথমিকভাবে ডাক পাওয়া ৪৩ ফুটবলারের মধ্য থেকে যাচাই-বাছাই শেষে বর্তমানে ২৬ জন ক্যাম্পে আছেন, যাদের মধ্য থেকে চূড়ান্ত ২৩ জনের দল ঘোষণা করা হবে।
এবারের অনূর্ধ্ব-২০ দল নিয়ে আশাবাদী বাফুফের ডেভেলপমেন্ট কমিটির প্রধান নাসের শাহরিয়ার জাহেদী। তিনি বলেন, “যশোরে যুব দলের প্রস্তুতি পুরোদমে চলছে। এবার আমরা এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ দলের চূড়ান্ত পর্বে কোয়ালিফাই করতে চাই এবং আমরা আশাবাদী।”