জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরকে কোনো নির্দিষ্ট দলের ইতিহাসের পরিবর্তে সর্বজনীন করার দাবি জানিয়েছেন জাতীয় ছাত্রশক্তির সাধারণ সম্পাদক আবু বাকের মজুমদার। তার আশঙ্কা, বর্তমান অবস্থায় জাদুঘরটি একটি নির্দিষ্ট দলীয় ইতিহাসে পরিণত হতে পারে।
রোববার (৯ আগস্ট) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এই দাবি উত্থাপন করেন।
বিবৃতিতে আবু বাকের মজুমদার উল্লেখ করেন, "২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ছিল ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার এক সর্বজনীন মহাজাগরণ। এই আন্দোলনের স্মৃতি রক্ষায় গঠিত জাদুঘরটি বিগত ১৫ বছরের স্বৈরাচারী আমলের নির্মম নির্যাতনের দলিল হওয়ার পাশাপাশি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সর্বজনীন স্মৃতি সংগ্রহশালা হওয়ার কথা ছিল। তবে বর্তমানে এটি একটি নির্দিষ্ট দলীয় ইতিহাসে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।"
তিনি অভিযোগ করেন, ভারত সীমান্তে হত্যাকাণ্ড এবং মোদিবিরোধী ঐতিহাসিক আন্দোলনের স্মৃতিচিহ্নগুলো আগে জাদুঘরে স্থান পেলেও বর্তমান বিএনপি সরকার ভারতকে সন্তুষ্ট করতে সেগুলো সরিয়ে ফেলেছে। পাশাপাশি আন্দোলনের মূল প্ল্যাটফর্ম বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের উল্লেখযোগ্য কোনো স্মৃতিচিহ্ন এখানে রাখা হয়নি বলেও তিনি দাবি করেন।
জাদুঘরটি মূলত ঢাকাকেন্দ্রিক ঘটনার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে বলে মনে করেন আবু বাকের মজুমদার। তিনি বলেন, "যেখানে দেশের বিভিন্ন জেলা ও প্রান্তিক অঞ্চলের মানুষের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ও স্মৃতি সম্পূর্ণ উপেক্ষিত রয়ে গেছে। এ ছাড়া জেনজি প্রজন্মকে আন্দোলনে উদ্বুদ্ধ করা বিভিন্ন কর্মসূচির অভিনব নামকরণগুলোকেও এখানে স্থান দেওয়া হয়নি।"
তার মতে, সামগ্রিকভাবে এই জাদুঘর জুলাইয়ের প্রকৃত ও গণ-ইতিহাসের প্রতিনিধিত্ব করতে ব্যর্থ হচ্ছে।
জাদুঘরটিকে কোনো সংকীর্ণ দলীয় স্বার্থে ব্যবহার না করার আহ্বান জানিয়ে জাতীয় ছাত্রশক্তি দাবি করেছে, এটিকে বিগত ১৫ বছরের ফ্যাসিবাদের প্রকৃত দলিল এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে দেশের প্রতিটি প্রান্তের মানুষের আত্মত্যাগের ইতিহাস সমৃদ্ধ একটি সর্বজনীন স্মৃতিশালা হিসেবে গড়ে তোলা হোক।