চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার ডাকাতিয়া নদীর পাড়ে নির্মাণ করা নান্দনিক ‘শাহরাস্তি ওয়াকওয়ে’তে প্রবেশ ফি নির্ধারণের সিদ্ধান্ত বাতিল করা হয়েছে। সম্প্রতি বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) এই ওয়াকওয়েটি ইজারা দেওয়ার পর প্রবেশ ফি আদায়ের ঘোষণা দিলে স্থানীয় বাসিন্দা ও দর্শনার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ তৈরি হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে টিকিটের ছবি ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনার ঝড় ওঠে, যার প্রেক্ষিতে প্রশাসন এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে।

প্রায় ৪৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই ওয়াকওয়েটি ২০২১ সালের ৪ ডিসেম্বর থেকে নির্মাণ শুরু হয়। দেড় বছরের কাজ শেষে সূচিপাড়া ব্রিজ থেকে চিখটিয়া ব্রিজ পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকাজুড়ে আধুনিক এই স্থাপনাটি গড়ে তোলা হয়। নদীর দুই পাশে রেলিং, বসার স্থান এবং বিভিন্ন প্রজাতির গাছ রোপণ করে একে একটি বিনোদনকেন্দ্র হিসেবে সাজানো হয়, যা ২০২৩ সালের ১৪ অক্টোবর সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়।

বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃক প্রকাশিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ইজারার টেন্ডার সূচি অনুযায়ী, এই পর্যটনকেন্দ্রের ৯ নম্বর পয়েন্টের প্রাক্কলিত মূল্য ধরা হয় ৪ লাখ ৫৮ হাজার ৯০৪ টাকা। টেন্ডারের আওতায় ডাকাতিয়া নদীর উভয় পাড়ে মালামাল ওঠানামার ওপর শুল্ক আদায়ের বিধান রাখা হয়। ইজারা পরিচালনার দায়িত্ব পান মো. মহিন উদ্দিন ওরফে মাইনু। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখানে প্রবেশের জন্য প্রতি দর্শনার্থীর ৫ টাকা, মোটরসাইকেলের ২০ টাকা, সিএনজিচালিত অটোরিকশার ৩০ টাকা এবং প্রাইভেট কারের জন্য ৫০ টাকা ফি আদায়ের প্রাথমিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল।

এই প্রসঙ্গে চাঁদপুর বিআইডব্লিউটিএর উপপরিচালক মো. কামরুজ্জামান বলেন, “আমরা ইজারাদারকে ওয়াকওয়ে ইজারা দিয়েছি। ইজারাদার প্রবেশ ফি নেওয়া এখনো শুরু করেনি। তবে ইজারাদার প্রবেশ ফি নিলে সেটি নিয়ম অনুযায়ী বৈধ হবে।”

তবে স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষার্থীদের দাবি, ওয়াকওয়েটি উন্মুক্ত হওয়ার পর এলাকাটি পর্যটনকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে এবং আশপাশের জমির দাম বহুগুণ বেড়েছে। তাদের মতে, আগের আমলে কোনো প্রবেশ ফি ছিল না এবং ইজারার ফলে সাধারণ মানুষের অবাধ বিচরণ বাধাগ্রস্ত হবে। তাই ওয়াকওয়েটি বিনামূল্যে ব্যবহারের সুযোগ রাখার জোর দাবি জানান তারা।

পরিস্থিতি পর্যালোচনার পর শাহরাস্তি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনিরা খাতুন একটি খুদে বার্তার মাধ্যমে জানান, বিআইডব্লিউটিএ চাঁদপুরের প্রতিনিধির সঙ্গে কথা বলে সাধারণ জনগণের যৌক্তিক আপত্তির কথা জানানো হয়েছে। আলোচনার পর সিদ্ধান্ত হয়েছে যে, কোনো টিকেটিং সিস্টেম থাকবে না এবং ওয়াকওয়ে আগের মতোই উন্মুক্ত থাকবে। প্রশাসনিক এই সিদ্ধান্তের পর স্থানীয় বাসিন্দারা ইউএনওকে ধন্যবাদ জানান।

ইউএনও মনিরা খাতুন বলেন, “সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি জানতে পারি যে ওয়াকওয়েতে প্রবেশ ফি ও গাড়ি পার্কিং বাবদ অর্থ নির্ধারণ করা হয়েছে। যদিও কেউ লিখিত অভিযোগ করেনি, তবুও ইজারাদার ও বিআইডব্লিউটিএর প্রতিনিধির সঙ্গে কথা বলে প্রবেশ ফি বা পার্কিং চার্জ না নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”