সাহিত্যের আঙিনায় নতুন কাব্যিক সৃষ্টি নিয়ে এলেন অলভী সরকার। তাঁর লেখনীতে উঠে এসেছে প্রকৃতির রূপক ও মানবজীবনের এক গভীর দর্শন। ‘পরিপক্ব কামিনীর ফল’ শিরোনামের এই কবিতায় কবি কামিনী ফুলের প্রস্ফুটন এবং তার পরবর্তী পরিণতির মধ্য দিয়ে জীবনের নশ্বরতা ও জৈবিক চাহিদাকে ফুটিয়ে তুলেছেন।

কবিতাটিতে কবি লিখেছেন, “কামিনী, কামিনী ফুটেছে। পরিপক্ব বীজাধার

প্রথাসিদ্ধ বিনম্র অভ্যাসে অংশত আড়াল।

শৈবাল জাপটানো ঋজুরেখ প্রশস্ত পাঁচিল

মুখোমুখি তোমাকে-আমাকে আশ্রয় দিয়েছিল

নিদাঘনিমগ্ন অবকাশে। সুবাসিত ফুলের

সংক্রমণ লুপ্ত হয়ে যায় নাকি ঝরে গেলে?

নতুন পোশাকে ম্লান শোকের স্মারক; শূন্য বা

সামান্য স্মৃতি দেবে না তেমন জোড়াতালি। খালি

হাতে পাখিরা ফিরে আসে! ঘাসে ও নির্যাসে পূর্ণ

পৃথিবীতে কতটা কেড়ে নিচ্ছে বনস্পতিভোজী?

মানুষ, মানুষ বলেই, নতজানু হতে হয়

জৈব ক্ষুধার কাছে, পাখি বা পতঙ্গ পরিচয়ে।”

প্রকৃতির এই চক্র এবং মানুষের অস্তিত্বের লড়াইকে অত্যন্ত নিপুণভাবে শব্দচয়নের মাধ্যমে উপস্থাপন করেছেন কবি অলভী সরকার।