দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘাত, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও উত্তেজনা বিরাজ করলেও ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি)। ক্যাম্পাসে নিজেদের সাংগঠনিক তৎপরতা অব্যাহত রাখলেও মুখোমুখি সংঘাত এড়িয়ে অপেক্ষাকৃত সতর্ক ও কৌশলী অবস্থানে রয়েছে রাজনৈতিক সংগঠন দুটি।
সাম্প্রতিক সময়ে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজ ও সরকারি আলিয়া মাদ্রাসাসহ বেশ কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষ ও রাজনৈতিক উত্তেজনার খবর পাওয়া গেছে। তবে রাবি ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি এখন পর্যন্ত অনেকটাই ভিন্ন। ক্যাম্পাসে দুটি সংগঠনের মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেও তা সরাসরি সংঘাতে রূপ নেয়নি। উভয় সংগঠনই এখন নিজেদের সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি, সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ জোরদার এবং কর্মসূচির মাধ্যমে উপস্থিতি জানান দেওয়ার দিকে মনোযোগী বলে মনে করছেন ক্যাম্পাস সংশ্লিষ্টরা।
এর আগে হলের সিট ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই সংগঠন একে অপরের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ এনেছে। সম্প্রতি এক শিক্ষার্থীকে মারধর ও পরবর্তী ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে ছাত্রদল শিবিরকে দায়ী করে কর্মসূচিও পালন করে। তবে প্রত্যক্ষ সংঘাত এড়িয়ে সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় দুই পক্ষই হিসাব-নিকাশ করে পা ফেলছে।
সার্বিক বিষয়ে শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, "ছাত্রদল একটি ঐতিহ্যবাহী সংগঠন। জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানেও আমাদের ১৪২ জন নেতাকর্মী প্রাণ দিয়েছেন। সাধারণ শিক্ষার্থীদের আমাদের প্রতি অনেক প্রত্যাশা রয়েছে। তাই কারোর উসকানিতে প্ররোচিত না হয়ে পরিস্থিতি ও দেশের স্বার্থ বিবেচনা করে অত্যন্ত দায়িত্বশীলতার সঙ্গে ছাত্রদল সিদ্ধান্ত নেয়। আমাদের লক্ষ্য কোনো সংঘাত সৃষ্টি নয়, বরং অন্যায়ের প্রতিবাদ ও নিরাপদ গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখা।"
তিনি আরও অভিযোগ করেন, রাবিতে কিছুদিন আগেও শিবিরের সঙ্গে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ছাত্রদল শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়ে তদন্ত সাপেক্ষে বিচারের দাবি জানিয়েছে। আদর্শগত দিক থেকে আমরা স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বে বিশ্বাসী, কোনো দেশবিরোধী দর্শনকে প্রশ্রয় দিই না।
অন্যদিকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি মেহেদী হাসান বলেন, "ক্যাম্পাসে গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখতে ছাত্রশিবির সবসময় কাজ করে যাচ্ছে। আমাদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা রাবি যেন একটি শান্ত ক্যাম্পাস হিসেবেই থাকে। আমরা কোনো সংঘাতে জড়াতে চাই না।"
অন্যান্য ক্যাম্পাসের সংঘাতের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, "দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিবিরের ওপর আঘাত করা সত্ত্বেও আমরা রাবিকে যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা থেকে মুক্ত রাখতে কাজ করছি। কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা সরাসরি উসকানিমূলক কথা বললেও আমরা সেই ফাঁদে পা দেব না। কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করা হলে তা কৌশলে প্রতিহত বা সমাধান করা হবে।"
ক্যাম্পাসের রাজনৈতিক পরিবেশ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান বলেন, "এখন পর্যন্ত ক্যাম্পাসের সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। রাজনৈতিক ইস্যুগুলোকে কেন্দ্র করে যাতে কোনো সংঘাত না ঘটে, সে জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব পক্ষের সঙ্গেই সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে। সংঘাত ঘটার মতো আপাতত কোনো আশঙ্কা দেখছি না, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।"