দেশের সড়ক দুর্ঘটনার সংখ্যা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বর্তমানে ধারাবাহিকভাবে হ্রাস পাচ্ছে বলে দাবি করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। শনিবার (৮ আগস্ট) বিকেলে বগুড়ায় শাহ ফতেহ আলী সেতুর উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এই কথা জানান।
মন্ত্রী জানান, সড়ক দুর্ঘটনা কমিয়ে আনতে সরকার স্পিড ম্যানেজমেন্ট এবং নিরাপদ সড়ক আইনের বাস্তবায়নের পাশাপাশি ২০৩০ সালের মধ্যে দুর্ঘটনায় মৃত্যু অর্ধেকে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। বিশ্বব্যাংক, এডিবি ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ ও সহযোগিতায় এসব কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
চালকদের ফিটনেস পরীক্ষা, প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ এবং ডোপ টেস্টের গুরুত্ব তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, "সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে জনগণের সচেতনতা, দক্ষ চালক ও ফিটনেসযুক্ত যানবাহন নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।"
তিনি আরও জানান, দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা অব্যবস্থাপনা ও তদারকির ঘাটতি দূর করতে বর্তমান সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। চালকদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার অভাবের বিষয়ে তিনি বলেন, অনেকেই সহকারী হিসেবে কাজ করতে করতে বাস বা ট্রাক চালানো শিখেছেন। তাই এখন থেকে ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদানের আগে চালকদের যথাযথ পরীক্ষা ও প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হচ্ছে, যাতে তাদের মানসিক ও শারীরিক সক্ষমতা নিশ্চিত করা যায়।
সম্প্রতি ঘটে যাওয়া কিছু দুর্ঘটনাকে অনাকাঙ্ক্ষিত হিসেবে উল্লেখ করে শেখ রবিউল আলম বলেন, "যেকোনো সময়ের চেয়ে সড়ক দুর্ঘটনার পরিমাণ ডেফিনেটলি কমছে এবং তা ধারাবাহিকভাবে কমে আসছে।"
বক্তব্য শেষে মন্ত্রী বগুড়া শহরের করতোয়া নদীর ওপর প্রায় ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত নতুন ‘শাহ ফতেহ আলী সেতু’র আনুষ্ঠানিক ফলক উন্মোচন করেন। শনিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে চেলোপাড়ায় সেতুটির উদ্বোধন করা হয়। মন্ত্রী জানান, ৬৮ মিটার দীর্ঘ এই আধুনিক সেতুটিতে অবৈধ স্থাপনা ও অস্থায়ী দোকানপাট প্রতিরোধে আলাদা লেন রাখা হয়েছে। পরবর্তীতে আলোকসজ্জা ও সৌন্দর্যবর্ধনের মাধ্যমে স্থানটিকে পর্যটনকেন্দ্রের মতো আকর্ষণীয় করে তোলা হবে।
সড়ক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ১৯৬২ সালে ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ২১৩ ফুট দীর্ঘ পুরোনো সেতুটি সংস্কারের অভাবে ২০১৮ সালে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয় এবং ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ২০২৩ সালের মে মাসে প্রায় ২০ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে নতুন সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয়। ২২৬ ফুট দীর্ঘ ও ৪০ ফুট প্রশস্ত এই সেতুতে দুই পাশে আট ফুট করে ফুটপাত এবং মাঝখানে ২৪ ফুট প্রশস্ত সড়ক রাখা হয়েছে। এই সেতুটি চালু হওয়ায় সারিয়াকান্দি, সোনাতলা, গাবতলী ও ধুনট উপজেলার মানুষের জেলা শহরে যাতায়াত এবং কৃষিপণ্য পরিবহন আরও সহজ হবে।
সেতু উদ্বোধনের পর মন্ত্রী সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) বগুড়া সড়ক জোনেরও আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। এই জোনের আওতায় বগুড়া, গাইবান্ধা, জয়পুরহাট, নওগাঁ ও সিরাজগঞ্জ—এই পাঁচ জেলার সড়ক উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা কাজ পরিচালিত হবে, যার ফলে প্রশাসনিক কাজে রংপুরে যাতায়াতের দুর্ভোগ কমবে।
পরবর্তীতে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমকে সঙ্গে নিয়ে সওজ সড়ক ভবন প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ করেন মন্ত্রী। দিনের শেষ কর্মসূচিতে শাকপালা পার্কের আধুনিকায়ন ও পুনর্গঠন কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে তিনি বলেন, মানুষের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য উন্মুক্ত পরিবেশ প্রয়োজন, যা মাথায় রেখে পার্কটির উন্নয়নকাজ শুরু করা হচ্ছে।