আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক লিওনেল মেসির বাবা হোর্হে মেসি আর নেই। আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম ইনফোবায়ের তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় শুক্রবার রাত ১০টার দিকে রোসারিওর একটি হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুকালে তার বয়স ছিল ৬৮ বছর।

দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন হোর্হে মেসি, তবে তার রোগের বিষয়ে পরিবার কখনো বিস্তারিত কিছু জানায়নি। প্রতিবেদনটি লেখা পর্যন্ত মেসির পরিবার, আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন কিংবা ইন্টার মায়ামির পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি।

মেসির ফুটবল জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথপ্রদর্শক ছিলেন হোর্হে। শৈশব থেকেই ছেলের ক্যারিয়ারের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। কৈশোরে মেসির শারীরিক বৃদ্ধিজনিত সমস্যার চিকিৎসার জন্য ২০০০ সালে ১৩ বছর বয়সী মেসিকে নিয়ে স্পেনে যান তিনি, কারণ আর্জেন্টিনায় সেই চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করা কঠিন ছিল। বার্সেলোনায় মেসির যোগদান ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করার ক্ষেত্রেও তার ভূমিকা ছিল অপরিসীম।

নতুন দেশে মানিয়ে নেওয়ার কঠিন সময়ে পরিবারের অন্য সদস্যরা রোসারিওতে ফিরে গেলেও ছেলের পাশে থেকে যান হোর্হে। পরবর্তীতে মেসির প্রতিনিধি হিসেবে বিভিন্ন চুক্তি, পৃষ্ঠপোষকতা ও দলবদলসংক্রান্ত বিষয়গুলো দেখাশোনা করেন তিনি। বার্সেলোনা থেকে প্যারিস সেন্ট জার্মেই এবং পরবর্তীতে ইন্টার মায়ামিতে মেসির যোগদানের আলোচনাতেও তিনি সক্রিয় ছিলেন। সংবাদমাধ্যমের সামনে খুব বেশি কথা না বললেও মেসির ক্যারিয়ারের নেপথ্য কারিগর ছিলেন হোর্হে।

২০২৬ বিশ্বকাপের সময় তার অসুস্থতার বিষয়টি আলোচনায় আসে। আলজেরিয়ার বিপক্ষে গোল করার পর মেসিকে আবেগাপ্লুত হতে দেখা যায়। ম্যাচ শেষে তিনি জানান, "ফুটবলের বাইরের একটি পারিবারিক বিষয় নিয়ে কয়েকটি কঠিন দিন কাটিয়েছেন।"

এরপর মেসির পরিবার এক বিবৃতিতে জানায়, "হোর্হে চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন এবং তার শারীরিক অবস্থার মধ্যে উন্নতি হচ্ছে।" একই সঙ্গে ব্যক্তিগত বিষয়টি নিয়ে অনুমান না করে দায়িত্বশীলতা ও গোপনীয়তা বজায় রাখার অনুরোধ জানানো হয়েছিল। তবে তিনি ঠিক কী রোগে ভুগছিলেন, তা প্রকাশ করেনি পরিবার।

স্ত্রী সেলিয়া কুচ্চিত্তিনি এবং চার সন্তান রদ্রিগো, মাতিয়াস, লিওনেল ও মারিয়া সোলকে রেখে গেছেন হোর্হে মেসি। তার শেষকৃত্যের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য জানানো হয়নি।