আফগানিস্তানের বিশ্বকাপ নিশ্চিত হওয়ার পর সরাসরি অংশগ্রহণের শেষ স্থানটি এখন বাংলাদেশ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের লড়াইয়ে নির্ধারিত হবে। বর্তমান র‍্যাঙ্কিংয়ে ছয় পয়েন্ট এগিয়ে থাকায় বাংলাদেশের অবস্থান সুবিধাজনক হলেও সেপ্টেম্বরের ম্যাচের ফলাফলের ওপর নির্ভর করছে লিটন দাসের দলের ভাগ্য। ভুল সমীকরণে বাংলাদেশ বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে চলে যেতে পারে।

আয়ারল্যান্ডকে ৯২ রানে পরাজিত করে নবম দল হিসেবে ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করেছে আফগানিস্তান। ২৯৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ২০৭ রানেই গুটিয়ে যায় আয়ারল্যান্ড। ছয় উইকেট নিয়ে জয়ের নায়ক হয়ে থাকেন রশিদ খান।

স্বাগতিক দেশ হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকা ও জিম্বাবুয়ের বিশ্বকাপ খেলা আগেই নিশ্চিত। তাদের বাইরে ৩০ সেপ্টেম্বরের র‍্যাঙ্কিং অনুযায়ী সেরা আট দল সরাসরি মূল আসরে যাবে। দক্ষিণ আফ্রিকা র‍্যাঙ্কিংয়ের সেরা আটে থাকায় সামগ্রিক তালিকার নবম স্থানে থাকা দলটিরও সরাসরি খেলার সুযোগ থাকবে।

বর্তমানে ৮৩ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে র‍্যাঙ্কিংয়ের নবম স্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। তাদের পেছনে ৭৭ পয়েন্ট নিয়ে দশম স্থানে আছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এই ছয় পয়েন্টের ব্যবধান বাংলাদেশকে এগিয়ে রাখলেও আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো বিশ্বকাপ নিশ্চিত হয়নি।

আগামী ১, ৩ ও ৬ সেপ্টেম্বর ভারতের বিপক্ষে তিনটি ওয়ানডে খেলার কথা রয়েছে বাংলাদেশের। এই সিরিজে অন্তত একটি জয় পেলে সরাসরি বিশ্বকাপ খেলার সম্ভাবনা প্রায় নিশ্চিত হয়ে যাবে।

তবে তিন ম্যাচেই হারলে বাংলাদেশের জন্য বিপদ তৈরি হতে পারে। সেক্ষেত্রে রেটিং কমে ৮২-এর কাছাকাছি নেমে আসতে পারে। অন্যদিকে, ওয়েস্ট ইন্ডিজ যদি ভারতের বিপক্ষে তাদের প্রথম দুই ওয়ানডে জিতে নেয়, তবে তাদের রেটিংও প্রায় একই জায়গায় পৌঁছাবে। তখন অতি সামান্য ব্যবধানে নির্ধারিত হবে শেষ সরাসরি টিকিটটি কার হবে।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের তিন ওয়ানডের প্রথম দুটি ম্যাচ হবে ২৭ ও ৩০ সেপ্টেম্বর। তৃতীয় ম্যাচটি ৩ অক্টোবর হওয়ায় সেটি সরাসরি যোগ্যতার হিসেবে গণ্য হবে না।

রাজনৈতিক টানাপোড়েনের কারণে ভারতের বাংলাদেশ সফর এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত নয়। সিরিজটি না হলে বাংলাদেশের বর্তমান ৮৩ রেটিং অপরিবর্তিত থাকবে। সেক্ষেত্রে কাটঅফের আগে মাত্র দুটি ম্যাচ খেলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে বাংলাদেশকে টপকানো কঠিন হবে। তাই ভারত সিরিজ না হওয়াটা বাংলাদেশের জন্য বড় বিপদ—এমন ধারণা পুরোপুরি সঠিক নয়।

তবে শেষ পর্যন্ত নবম স্থান হারালে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ স্বপ্ন শেষ হয়ে যাবে না। সেক্ষেত্রে সরাসরি খেলার সুযোগ না পেয়ে ২০২৭ সালের বাছাইপর্ব পেরিয়ে মূল আসরের টিকিট সংগ্রহ করতে হবে।