৫ আগস্টের পর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্ল্যাটফর্মটি জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রশিবির দখল করে নিয়েছিল বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শ্যামল মালুম। তার দাবি, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর যে সর্বজনীন প্ল্যাটফর্মটি গড়ে উঠেছিল, বিভিন্ন ক্যাম্পাসে তা নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর দ্বারা কুক্ষিগত করা হয়।
সম্প্রতি মুক্তকণ্ঠের ‘আলাপন’ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে শ্যামল মালুম উল্লেখ করেন, তিতুমীর কলেজ, বাংলা কলেজ ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘নো স্টুডেন্ট পলিটিক্স’ বা ছাত্ররাজনীতি বন্ধের দাবিতে আন্দোলন চালানো হয়েছিল। সেই সময়ে উপাচার্য ও প্রক্টরদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়। তবে তিনি লক্ষ্য করেছেন যে, ওই আন্দোলনের অগ্রভাগে থাকা অনেকেই পরবর্তীতে বিভিন্ন ক্যাম্পাসে ছাত্রশিবিরের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছেন।
এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "ছাত্রসমাজের সামনে এক ধরনের অবস্থান তুলে ধরা হলেও পরে ভিন্ন বাস্তবতা সামনে এসেছে।"
এমন আচরণ সুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
পাশাপাশি নতুন ছাত্রসংগঠন ‘ছাত্রশক্তি’র বিষয়ে অভিযোগ করে শ্যামল মালুম বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ও অধিদপ্তরে তারা চাঁদাবাজিতে জড়িত ছিল। এছাড়া সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে মব তৈরির প্রবণতাও দেখা গেছে বলে তিনি দাবি করেন।
ছাত্রদলের অবস্থান পরিষ্কার করে তিনি জানান, দেশের বৃহৎ ছাত্রসংগঠন হওয়া সত্ত্বেও ছাত্রদল কোনো শিক্ষার্থীর ওপর নিপীড়ন চালায়নি এবং জবরদখলের রাজনীতি সমর্থন করে না। সংগঠনের কোনো সদস্য অনিয়মে জড়িত হলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি তাকে প্রশাসনের কাছে সোপর্দ করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।