২০২৬ বিশ্বকাপ চলাকালীন লিওনেল মেসিকে লক্ষ্য করে বোমা ও সশস্ত্র হামলার একাধিক হুমকি পেয়েছিল নিরাপত্তা সংস্থাগুলো। স্পেনের সংবাদমাধ্যম ইনফরমাসিওন একটি ফাঁস হওয়া পুলিশি নথির বরাতে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছে। তবে এই হুমকিগুলো বাস্তব কোনো হামলার পরিকল্পনার অংশ ছিল কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের এফবিআই এবং আন্তর্জাতিক পুলিশ সহযোগিতা কেন্দ্রের নথিতে টুর্নামেন্টের বিভিন্ন নিরাপত্তা হুমকির বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া হয়েছে। সেই প্রতিবেদন অনুযায়ী, ব্যক্তিগতভাবে সবচেয়ে বেশি হুমকির মুখে পড়া ব্যক্তিদের একজন ছিলেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক লিওনেল মেসি।
নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, জর্ডানের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ম্যাচের আগে এক ব্যক্তি ডালাস বিমানবন্দরে ফোন করে দাবি করেন যে, তিনি ও আরও দুজন ঘরে তৈরি বোমা এবং একটি এআর-১৫ রাইফেল নিয়ে স্টেডিয়ামের দিকে যাচ্ছেন। ওই ব্যক্তি পুলিশ ও দুই দলের খেলোয়াড়দের ওপর হামলার কথা বলার পাশাপাশি মেসির নাম বিশেষভাবে উল্লেখ করেন।
এছাড়া আর্জেন্টিনা ও মিশরের শেষ ষোলোর ম্যাচের আগেও মেসিকে লক্ষ্য করে বোমা হামলার হুমকি দেওয়া হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক ব্যক্তি শরীরে বোমা বেঁধে আটলান্টার স্টেডিয়ামে প্রবেশের হুমকি দেন। একই সময়ে আরেক ব্যক্তি পুলিশকে ফোন করে দাবি করেন যে, তিনি স্টেডিয়ামের ময়লার ঝুড়িতে তিনটি বোমা রেখে এসেছেন। ঘটনার পর বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল ও প্রশিক্ষিত কুকুর দিয়ে তল্লাশি চালানো হলেও কোনো বিস্ফোরক উদ্ধারের তথ্য পাওয়া যায়নি এবং ম্যাচে কোনো হামলা ঘটেনি।
শুধুমাত্র খেলোয়াড়রা নন, মিশরের বিপক্ষে ম্যাচটির ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়েও ব্যাপক হুমকির মুখে পড়েন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি তার ব্যক্তিগত হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে ছয় হাজারের বেশি হুমকিমূলক বার্তা পান। এর ফলে ফ্রান্সে অবস্থানরত তার পরিবারের নিরাপত্তাও জোরদার করা হয়েছিল।
অন্যদিকে, সুপারস্টার ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর হোটেল ও অবস্থান সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের চেষ্টার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশ। এছাড়া রোনালদোর সঙ্গে একই লিফটে ওঠার চেষ্টা করা এক সমর্থককে আটক করা হয়।
বিশ্বকাপ শেষে এফবিআই জানিয়েছে, টুর্নামেন্ট চলাকালে তারা ভুয়া জরুরি ফোন, বোমা হামলার হুমকি ও বিভিন্ন অপরাধমূলক তথ্যের তদন্ত করেছে। তবে পুরো আসরে বড় ধরনের কোনো নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়নি।