ওয়ানডেতে কোনো ইনিংসে ৫ উইকেট নেওয়াই সাধারণভাবে কঠিন। তার ওপর ৬ উইকেট—এটা আরও বেশি চ্যালেঞ্জিং। পরিসংখ্যানও সেদিকেই ইঙ্গিত দিচ্ছে। ওয়ানডে সংস্করণে ইনিংসে সর্বোচ্চ ১৩বার ৫ উইকেট নেওয়া হয়েছে, আর ৬ উইকেটের সর্বোচ্চ সংখ্যা ৫ বার—দুটিই একজনের দখলে। সেই রেকর্ডের নাম ওয়াকার ইউনিস।

এই রেকর্ডের পাতায় নিজের অবস্থান আরও কাছে টেনে নিয়েছেন আফগান লেগ স্পিনার রশিদ খান। গতকাল রাতে আয়ারল্যান্ডের ব্রেডি ক্রিকেট ক্লাব মাঠে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে স্বাগতিকদের বিপক্ষে ৬ উইকেট নেন রশিদ। ওয়ানডে ক্যারিয়ারে এটি তাঁর ইনিংসে ষষ্ঠবারের মতো ৬ উইকেট নয়—বরং এ নিয়ে তৃতীয়বার ইনিংসে ৬ উইকেটের কৃতিত্ব পেলেন তিনি। রেকর্ডের এই তালিকায় তাঁর সামনের কেবল ওয়াকার।

সিরিজের প্রথম ওয়ানডে বৃষ্টির কারণে ভেসে যায়। দ্বিতীয় ম্যাচেও আবহাওয়ার বাধা ছিল। ফলে ম্যাচের দৈর্ঘ্য কমিয়ে ৪৭ ওভারে নির্ধারণ করা হয়। আগে ব্যাটিংয়ে নেমে ইব্রাহিম জাদরানের ৮৪ রানের ভর করে ৮ উইকেটে ২৯৯ রান তোলে আফগানিস্তান। তাড়া করতে নেমে আয়ারল্যান্ড ১৪ ওভারে ১ উইকেটে ৯৬ রান তুলে অপেক্ষাকৃতই ভালই শুরু করেছিল। তবে এরপরই বদলে যায় ম্যাচের গতিপথ। রশিদের বোলিংয়ে নিয়ন্ত্রণ চলে আসে আফগানিস্তানের দিকে এবং শেষ পর্যন্ত ৩৩.৪ ওভারে ২০৭ রানে অলআউট হয়ে ৯২ রানে হেরে যায় আইরিশরা।

১৫তম ওভারের প্রথম বলেই অ্যান্ডি বলবার্নিকে ফিরিয়ে রশিদ শুরুটা করেন। নিজের পরের ওভারে হ্যারি টেক্টরকেও আউট করে দেন তিনি। ২৯ ওভার শেষে আইরিশদের সংগ্রহ ছিল ৫ উইকেটে ১৯৩। তখনও আইরিশদের সামনে ১০৮ বলে ১০৭ রানের সমীকরণটা খুব কঠিন মনে হয়নি। কিন্তু রশিদ এরপর যা করেন, সেটা ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়—নিজের পরবর্তী তিন ওভারের মধ্যেই তিনি তুলে নেন ৪ উইকেট।

আইরিশদের শেষ ৭ উইকেটের মধ্যে ৪টিই আসে রশিদের স্পিন থেকে। মাত্র ৯ রানের মধ্যে শেষ পাঁচ উইকেট হারায় স্বাগতিকরা। ৩৪ রানে ৬ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা হন রশিদ। তাঁর বোলিং প্রসঙ্গে একটি পরিসংখ্যানও দৃষ্টি টানে—৭.৪ ওভার বোলিং মানে ৪৬টি বৈধ ডেলিভারি। এর মধ্যে অর্ধেকই (২৩) ডট।

আয়ারল্যান্ডের হয়ে সর্বোচ্চ ৬২ রান করেন কেড কারমাইকেল।

রশিদের ওয়ানডে ক্যারিয়ারের এটি সেরা বোলিং নয়। ২০১৭ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ১৮ রানে তিনি নিয়েছিলেন ৭ উইকেট। গত রোববার হানড্রেড টুর্নামেন্টে এমআই লন্ডনের হয়ে ম্যাচে ৫ উইকেট নেওয়ার চার দিন পরই ওয়ানডেতে তিনি তুলে নেন ৬ উইকেট।

জয়ের পর বোলিংয়ের ব্যাখ্যায় বেশ বাঁক পাওয়া প্রসঙ্গেও কথা বলেন রশিদ। তিনি বলেছেন, ‘এখানে বোলিং উপভোগ করার প্রধান কারণ হলো বলের তীব্র বাঁক। বিশেষ করে এমন কন্ডিশনে স্পিন বোলিং করাটা আমার খুব পছন্দের। লেগ স্পিনারদের আসল জায়গা হলো ৫ থেকে সাড়ে ৫ মিটারের লেন্থ। স্টাম্প সোজা বোলিং করলে উইকেটের সুযোগ বাড়ে।’

ওয়ানডেতে রশিদ এখন ইনিংসে ন্যূনতম ৫ উইকেট নিয়েছেন ৭ বার। বর্তমান স্পিনারদের মধ্যে আর কেউ তাঁর চেয়ে বেশি সংখ্যায় এই সংস্করণে ইনিংসে ৫ উইকেট নিতে পারেননি। বেলফাস্টে আগামী সোমবার সিরিজের তৃতীয় ওয়ানডে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।