ডান্ডিতে স্কটল্যান্ড ও কানাডার মধ্যকার ম্যাচ চলছে। আইসিসি মেনস ক্রিকেট ওয়ার্ল্ড কাপ লিগ টুয়ের আওতায় আইসিসির দুই সহযোগী দেশের এই লড়াইয়ের খবর সাধারণ মানুষের চোখে পড়তে নাও পারে। তবে ম্যাচটির তাৎপর্য অন্যরকম—এটাই ওয়ানডের পাঁচ হাজারতম ম্যাচ।

১৯৭১ সালের জানুয়ারিতে প্রথম ওয়ানডেতে মুখোমুখি হয়েছিল ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়া। সেই থেকে ৫৫ বছর পেরিয়ে আজ অনুষ্ঠিত হচ্ছে ওয়ানডের পাঁচ হাজারতম ম্যাচ। আন্তর্জাতিক ওয়ানডেতে ১ থেকে ৫০০০তম ম্যাচগুলো কেমন ছিল, একনজরে দেখে নেওয়া যাক।

১৯৭১ সালে অস্ট্রেলিয়ায় ইংল্যান্ডের ওই সফরে ওয়ানডে খেলার কোনো পরিকল্পনা ছিল না। পরে দুই দলের তৃতীয় টেস্টটা বৃষ্টিতে ভেসে যাওয়ার পর প্রায় ৮০ হাজার ডলার ক্ষতির মুখে পড়ে অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট বোর্ড। ক্ষতি পুষিয়ে নিতে একটি বাড়তি টেস্ট খেলার ভাবনা এলেও তাতে রাজি হননি সফরকারী ইংল্যান্ডের ক্রিকেটাররা। শেষ পর্যন্ত মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে এক দিনের একটি ম্যাচ আয়োজনের সিদ্ধান্ত হয়।

ম্যাচটি দেখতে মাঠে হাজির হন ৪৬ হাজার মানুষ। শুরু হয় ওয়ানডে ক্রিকেটের যাত্রা। ৪০ ওভারের ম্যাচ হলেও তখন প্রতি ওভারে হতো ৮ বল। আগে ব্যাট করে ১৯০ রানে অলআউট হয় ইংল্যান্ড। ৩৪.৬ ওভারে ৫ উইকেট হাতে রেখেই রান তাড়া করে ফেলে অস্ট্রেলিয়া। ম্যাচের পর ডন ব্র্যাডম্যান দর্শকদের উদ্দেশে বলেছিলেন, ‘আপনারা ইতিহাসের সাক্ষী হলেন…’—মাঠে উপস্থিত থাকা খুব কম লোকই অবশ্য তা টের পেয়েছিলেন।

এক হাজার ওয়ানডে হতে প্রায় ২৪ বছর সময় লেগেছিল, দিনের হিসাবে ৮৯০৫ দিন। এর মধ্যে ওয়ানডের নিয়মকানুন বদলেছে অনেক। ৮ বলের ৪০ ওভার, ৬ বলের ৫৫ কিংবা ৬০ ওভার—এমন বিভিন্ন রূপ পেরিয়ে ৬ বলে ৫০ ওভারের ওয়ানডে প্রতিষ্ঠা পেতে থাকে।

নটিংহামের এই ম্যাচটা যদিও ছিল ৫৫ ওভারের, তত দিনে ৫০ ওভারের বিশ্বকাপ শুরু হলেও ইংল্যান্ডে দ্বিপক্ষীয় সিরিজ হতো এই নিয়মে। এক হাজারতম ওয়ানডেতে ৫ উইকেটে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারায় ইংল্যান্ড। আগে ব্যাট করে ৯ উইকেটে ১৯৯ রান করেছিল ক্যারিবীয়রা।

এক হাজার থেকে দুই হাজারে যেতে সময় লেগেছে ৮ বছরেরও কম। এ সময়েই জনপ্রিয়তা পায় এই সংস্করণ। ওয়ানডেতে দুই হাজারতম ম্যচটা হয়েছিল শারজা কাপের ফাইনালে, খেলেছিল জিম্বাবুয়ে ও পাকিস্তান। ওই ম্যাচে জিম্বাবুয়েকে ৮ উইকেটের বড় ব্যবধানে হারায় পাকিস্তান।

২৬৩০ দিনের মধ্যে হয়ে যায় আরও এক হাজার ওয়ানডে। সবচেয়ে কম সময়ে এক হাজার ওয়ানডে হওয়ার রেকর্ড এটি। সাউদাম্পটনের এই ম্যাচে অস্ট্রেলিয়াকে ৪ উইকেটে হারায় ইংল্যান্ড।

চার হাজারতম ওয়ানডে মুখোমুখি হয় আইসিসির দুই সহযোগী সদস্যদেশ। হারারের ম্যাচটি ছিল বিশ্বকাপ বাছাইয়ের। আগে ব্যাট করে ২০০ রানে অলআউট হয়ে যায় পাপুয়া নিউগিনি। রান তাড়ায় ১৪২ রানে অলআউট হয়ে ৫৮ রানে ম্যাচ হেরে যায় হংকং।

৮ বছর পর এবার আরও একবার হাজারতম ম্যাচে দুই সহযোগী সদস্যদেশ মুখোমুখি—স্কটল্যান্ড ও কানাডা।