বাংলাদেশ ক্রিকেটের ইতিহাস থেকে সাকিব আল হাসানের যাবতীয় রেকর্ড, পরিসংখ্যান ও অর্জন মুছে ফেলার দাবি জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি সাকিবের প্রকাশ্য সমর্থনের তীব্র সমালোচনা করে তিনি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) কাছে এই আহ্বান জানান।

শুক্রবার নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে শফিকুল লেখেন, বিসিবির উচিত সাকিবের সব রেকর্ড, পরিসংখ্যান ও মাইলফলক মুছে ফেলা। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, ‘বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের উচিত সাকিব আল হাসানের সব রেকর্ড, পরিসংখ্যান ও মাইলফলক মুছে ফেলা।’

সাবেক এই প্রেস সচিবের মতে, ক্রিকেটের ইতিহাস থেকে সাকিবের নাম ও রেকর্ড মুছে ফেললেও বাংলাদেশের ক্রিকেটের কোনো ক্ষতি হবে না। নিজের দাবির সপক্ষে তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক ক্রিকেটার ব্যারি রিচার্ডস, গ্রায়েম পোলক, পিটার পোলক, মাইক প্রক্টর ও এডি বারলোর উদাহরণ টেনে আনেন। বর্ণবাদী শাসনব্যবস্থার কারণে দীর্ঘ সময় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে বিচ্ছিন্ন ছিল দক্ষিণ আফ্রিকা; সেই সময়ের ক্রিকেটারদের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি তার যুক্তির অবতারণা করেন।

সাকিবের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অবস্থান, বিশেষ করে শেখ হাসিনার সঙ্গে ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে অংশগ্রহণ এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রীর প্রতি প্রকাশ্য সমর্থনের বিষয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শফিকুল। তার ভাষায়, সাম্প্রতিক অবস্থানের পর সাকিবকে বাংলাদেশের ক্রিকেটে সম্মানজনক জায়গা দেওয়ার সুযোগ থাকা উচিত নয়।

এর আগে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনার প্রতি রাজনৈতিক আনুগত্য প্রকাশ করেছিলেন সাকিব। শেখ হাসিনাকে ‘ক্যাপ্টেন’ হিসেবে অভিহিত করে তার সিদ্ধান্ত ও নির্দেশনা অনুসরণ করার কথা জানান এই সাবেক অধিনায়ক। ওই সাক্ষাৎকারে সাকিব আরও জানান, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হলে তিনি দেশে ফিরে আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে আগ্রহী। এছাড়া একটি বিদায়ী সিরিজ খেলে ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের হয়ে খেলার আশাও ব্যক্ত করেন তিনি।

তবে শেখ হাসিনাকে সমর্থন এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পর জাতীয় দলে সাকিবের ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকও ক্রিকবাজকে জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সাকিবের দেশে ফিরে জাতীয় দলের হয়ে খেলার কোনো সুযোগ তিনি দেখছেন না।