রাজধানীর বনানী এলাকায় নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগ এবং আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনের মিছিল করার চেষ্টার অভিযোগে গ্রেপ্তার সাতজনের মধ্যে তিনজনকে কারাগারে এবং চার কিশোরকে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
আজ শুক্রবার পুলিশের আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রাকিবুল হাসান শুনানি শেষে এই আদেশ প্রদান করেন। আসামিপক্ষের আইনজীবী তুষার আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, কারাগারে পাঠানো তিন আসামি হলেন মো. আরিফ (১৯), মো. শাকিল আহমেদ (১৯) ও আশিক আহমেদ মোস্তফা (১৯)। এছাড়া বাকি চার কিশোরকে গাজীপুরের শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে।
বনানী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম তালুকদার আসামিদের গ্রেপ্তার রাখার আবেদনে উল্লেখ করেন, "প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা নিষিদ্ধ সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততা ও অপপ্রচারের উদ্দেশ্যে ঝটিকা মিছিল বের করার কথা স্বীকার করেছেন।"
আবেদনে আরও বলা হয়, মামলার মূল রহস্য উদ্ঘাটন ও পলাতক আসামিদের শনাক্ত করতে পরবর্তী সময়ে তদন্তের স্বার্থে আসামিদের রিমান্ডের আবেদন করা হতে পারে। এছাড়া আসামিরা জামিন পেলে বিচারপ্রক্রিয়া বিঘ্নিত হওয়ার এবং পুনরায় পলাতক হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।
এর আগে বনানী থানার এসআই সিদ্দিক হোসেন বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গতকাল বৃহস্পতিবার দিবাগত মধ্যরাতে বনানী থানার ডলফিন ভাস্কর্য ও আর্মি স্টেডিয়ামের বিপরীত পাশে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে ১০০ থেকে ১২০ জনের একটি দল অবৈধ পন্থায় মশালমিছিল ও নাশকতার চেষ্টা চালায়। খবর পেয়ে বনানী থানা–পুলিশের একটি বিশেষ টহল দল ঘটনাস্থলে অভিযান চালিয়ে সাতজনকে আটক করে। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অন্য অজ্ঞাতপরিচয় আসামিরা পালিয়ে যান।
মামলার নথি অনুযায়ী, অভিযান চলাকালীন ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ নাশকতায় ব্যবহৃত ৭০টি মশাল, ১টি ব্যানার ও ৭৭টি ফেস মাস্ক জব্দ করেছে।