বিশ্বকাপ আয়োজনের লক্ষ্যে পৃথক কোম্পানি গঠন এবং বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে শেয়ার বিক্রির পরিকল্পনা নিয়ে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে ‘ক্ষমতার গভীর অপব্যবহারের’ অভিযোগ তুলেছে বিশ্ব ফুটবলারদের সংগঠন ফিফপ্রো। ৭০টির বেশি দেশের খেলোয়াড় সংগঠন নিয়ে গঠিত এই সংস্থাটি দাবি করেছে, ইনফান্তিনোর কর্মকাণ্ডের ফলে ফিফার প্রতি খেলোয়াড়দের আস্থা ‘মৌলিকভাবে ভেঙে পড়েছে’।

জানা গেছে, ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ (এফএফই) নামে একটি প্রতিষ্ঠান চালুর পরিকল্পনা করেছিল ফিফা, যার মাধ্যমে বিশ্বকাপসহ বড় প্রতিযোগিতাগুলো আয়োজন করা হতো। সদস্য সংস্থাগুলোকে জানানো হয়েছিল, এই প্রতিষ্ঠানে বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের অংশীদারত্ব দেওয়া হবে। তবে তীব্র বিরোধিতার মুখে গত সপ্তাহে এই পরিকল্পনা থেকে সরে আসার কথা জানায় ফিফা। বুধবার মরক্কোয় অনুষ্ঠিত এক বৈঠকের পর দেওয়া বিবৃতিতে ফিফা ওই পরিকল্পনা কার্যক্রম ‘ভুল’ ছিল বলে স্বীকার করে নেয়।

তবে ফিফার এই বিবৃতির ভাষা সন্তোষজনক মনে করেনি ফিফপ্রো। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক বার্তায় সংগঠনটি জানিয়েছে, এফএফই প্রস্তাব প্রত্যাহার অনিবার্য ছিল; কিন্তু তা প্রত্যাহারের অর্থ এই নয় যে প্রস্তাবটি পুরোপুরি মুছে গেছে।

ফিফপ্রো বিষয়টিকে নিছক পরিচালনাগত ব্যর্থতা হিসেবে না দেখে সরাসরি ‘প্রেসিডেনশিয়াল ক্ষমতার গভীর অপব্যবহার’ বলে আখ্যা দিয়েছে। সংগঠনটির মতে, এফএফই প্রত্যাহার একটি অপরিবর্তনীয় সিদ্ধান্ত ঠেকিয়েছে ঠিকই; কিন্তু আস্থার সংকট এখনো কাটেনি। তারা আরও মন্তব্য করেছে যে, সতর্কভাবে সাজানো বিবৃতি, অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনা কিংবা প্রক্রিয়া উন্নত করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে এই আস্থা পুনরুদ্ধার সম্ভব নয়।

ফিফপ্রোর দাবি, যেসব সংস্কার এমনিতেই থাকা উচিত ছিল, শুধু সেগুলোর ঘোষণা দিয়েও আস্থা ফেরানো যাবে না। এই সংস্কার এখন অপরিহার্য; কিন্তু তা ভবিষ্যতের দায়িত্ব, অতীতের জন্য মুক্তির উপায় নয়। সংগঠনটি আরও বলেছে, এই সংকট খেলোয়াড়দের তৈরি নয়; বরং তারাই চাইবে ফুটবল যেন এই সংকট থেকে আরও শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান, শক্তিশালী সুরক্ষাব্যবস্থা এবং খেলাটির প্রাপ্য আস্থার যোগ্য নেতৃত্ব নিয়ে বেরিয়ে আসে।

এই পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে ফিফার মহাসচিব মাটিয়াস গ্রাফস্ট্রমকে চিঠি দিয়ে পরিচালনা কাঠামোয় সংস্কারের দাবি জানিয়েছে ফিফপ্রো। প্রেস অ্যাসোসিয়েশনের দেখা ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, ফিফা সভাপতির পদ প্রতিষ্ঠানকে রক্ষা করার জন্য, প্রতিষ্ঠানকে পাশ কাটানোর জন্য নয়। বিশ্বকাপ কোনো সভাপতির ব্যক্তিগত সম্পদ নয়, ফিফাও নয়।