কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রী হলের সহপাঠী ও আবাসিক শিক্ষার্থীদের গোপনে আপত্তিকর ছবি তুলে লন্ডনে অবস্থানরত প্রেমিকের কাছে পাঠানোর অভিযোগে হল থেকে বহিষ্কৃত হয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ছাত্রী হলে এই ঘটনাটি ঘটেছে।

হলের প্রাধ্যক্ষ মুক্তকণ্ঠকে জানান, "প্রাথমিকভাবে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। ওই ছাত্রীকে হল থেকে বহিষ্কার করে তাঁর বাবার জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।" একই সঙ্গে পুরো ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রদানের জন্য তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় ও হলের আবাসিক শিক্ষার্থীদের সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত ছাত্রীর সঙ্গে যুক্তরাজ্যপ্রবাসী এক যুবকের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সেই সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে তিনি হলের কক্ষের ভেতরে থাকা অন্য ছাত্রীদের বিভিন্ন সময়ে তোলা আপত্তিকর ছবি ওই যুবকের কাছে পাঠাতেন। সম্প্রতি তাদের ব্যক্তিগত সম্পর্কের অবনতি হলে ওই যুবক ছবিগুলোর কিছু অংশ ভুক্তভোগী ছাত্রীদের কাছে পাঠান, যা হলে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে বিষয়টি হলের প্রাধ্যক্ষ ও প্রক্টরিয়াল বডির নজরে আসে।

হল প্রাধ্যক্ষ জানান, আজ শুক্রবার সকাল ১০টায় এ বিষয়ে একটি জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ভুক্তভোগী ৭ জন ছাত্রী লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। এর মধ্যে কয়েকজন তাদের মুঠোফোনে থাকা আপত্তিকর ছবি এক নারী শিক্ষককে দেখান, যা ওই যুবককে পাঠানো হয়েছিল। অভিযুক্ত ছাত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি প্রাথমিকভাবে সত্যতা স্বীকার করেন। এরপরই তাঁকে হল থেকে বহিষ্কার করে বাবার কাছে হস্তান্তর করা হয়।

এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে অভিযুক্ত ছাত্রী ক্যাম্পাসে কর্মরত সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে একটি ভিডিও বক্তব্য দিয়েছেন। সেখানে তিনি দাবি করেন, তাঁর বান্ধবী ও সহপাঠীরাও ওই যুবককে চিনতেন এবং তাঁর সঙ্গে তাঁদের কথা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, "ছেলটির সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি কোথায় আছেন, কী করছেন বোঝাতে গিয়ে সামনে যে ছিল, তাঁর ছবি তুলে দিয়ে জানিয়েছেন, তাঁর সঙ্গে আছেন। এটা যে অনুচিত ও বেআইনি হবে, তিনি বুঝতে পারেননি।"

ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে অধ্যাপক আরিফা আক্তারকে আহ্বায়ক, অধ্যাপক মুহা. কামরুজ্জামানকে সদস্যসচিব এবং সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক মোহা. খাইরুল ইসলামকে সদস্য করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী ৭ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

হলের প্রাধ্যক্ষ মুক্তকণ্ঠকে আরও জানান, অভিযুক্ত ছাত্রীর দুটি মুঠোফোন জব্দ করে তদন্ত কমিটির আহ্বায়কের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়া আরও কোনো ভুক্তভোগী আছেন কি না, তা জানতে আগামী রোববার পর্যন্ত অভিযোগ জমা দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। তিনি জানান, এই ঘটনার পর হলের ভেতরে কক্ষে ভিডিও কলে কথা বলায় নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে এবং কেউ কথা বলতে চাইলে বাইরে গিয়ে কথা বলার নির্দেশনা মাইকে প্রচার করা হয়েছে।