প্রায় দুই বছর ধরে প্রবাসে অবস্থানরত সাবেক অধিনায়ক সাকিব আল হাসান বাংলাদেশে ফেরার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। সরকার তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করলে দেশে ফিরে নিজের বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোর বিচারপ্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে প্রস্তুত এই অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার। একই সঙ্গে দেশের মাটিতে একটি বিদায়ী সিরিজ খেলে ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্ন দেখছেন তিনি।

শুক্রবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দেশে ফেরা, আইনি জটিলতা এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন ৩৯ বছর বয়সী সাকিব। বর্তমানে তিনি শ্রীলঙ্কায় ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট খেলছেন।

সাক্ষাৎকারে সাকিব বলেন, "সরকার যদি তাকে দেশে ফেরার অনুমতি দেয় এবং নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেয়, তাহলে দেশে ফিরতে তার কোনো আপত্তি নেই। নিজের বিরুদ্ধে চলমান আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতেও তিনি প্রস্তুত।"

নিজেকে নির্দোষ দাবি করে সাকিব রয়টার্সকে বলেন, "তার বিশ্বাস তিনি কোনো অপরাধ করেননি।"

২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে সাকিব দেশে ফেরেননি। আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য সাকিবের বিরুদ্ধে বর্তমানে একটি হত্যা মামলা এবং দুর্নীতির অভিযোগে তদন্ত চলছে বলে তিনি জানান। তবে হত্যা মামলাটি যে ঘটনার প্রেক্ষিতে করা হয়েছে, সেই সময়ে তিনি কানাডার টরন্টোতে একটি ম্যাচ খেলছিলেন বলে দাবি করেন তিনি।

দেশে ফেরার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে কথা বলতে চান বাংলাদেশের সাবেক এই অধিনায়ক। সাকিবের দাবি, আগের অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে তিনি আইনজীবীর মাধ্যমে স্বরাষ্ট্র, আইন ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিলেও কোনো সাড়া পাননি।

২০২৪ সালের শেষ দিকে একবার দেশে ফেরার চেষ্টা করেছিলেন সাকিব। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সরকারের পক্ষ থেকে নিরাপত্তার আশ্বাস পাওয়ার পর তিনি যাত্রা শুরু করেছিলেন, কিন্তু মাঝপথে তাকে ফিরে যেতে বলা হয়। ফলে দুবাই থেকে পুনরায় যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যান তিনি। বর্তমানে স্ত্রী ও তিন সন্তানকে নিয়ে নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ডে অবস্থান করছেন সাকিব।

দেশের বাইরে থাকলেও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে এখনই বিদায় জানাতে নারাজ এই তারকা ক্রিকেটার। বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে নিয়মিত খেলার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, এখনো খেলা উপভোগ করছেন এবং নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে সন্তুষ্ট। তবে বয়সের কারণে খুব বেশি সময় হাতে নেই বলেও স্বীকার করেছেন তিনি।

সাকিবের লক্ষ্য, দেশে ফিরে একটি বিদায়ী সিরিজ খেলা এবং সম্ভব হলে ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করা। দেশে ফেরার পথ প্রশস্ত হলে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টা করবেন ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সফল এই অলরাউন্ডার।