বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার চরাদী ইউনিয়নে বালুবোঝাই একটি বাল্কহেডের ধাক্কায় একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু ধসে পড়েছে। এই ঘটনার ফলে অন্তত পাঁচটি গ্রামের প্রায় ২০ হাজার মানুষের উপজেলা সদরের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।

বুধবার (৫ আগস্ট) দুপুরে হলতা বাজারসংলগ্ন হালকা খালের ওপর নির্মিত সেতুটিতে এই দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, নদীপথে বালু পরিবহনকারী নিজাম ডাকুয়ার একটি বাল্কহেড সেতুর নিচ দিয়ে যাওয়ার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সেতুর মাঝের পিলারে সজোরে আঘাত করে। এতে পিলারটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই সেতুর মাঝের অংশ ধসে পড়ে।

দুর্ঘটনার পরপরই নিরাপত্তার স্বার্থে প্রশাসন সেতুটি দিয়ে সব ধরনের যানবাহন ও মানুষের চলাচল বন্ধ করে দেয়। সরেজমিনে দেখা গেছে, সেতুর মাঝখানের স্প্যান ভেঙে নিচের দিকে দেবে গেছে। দুই পাশের সংযোগ অক্ষত থাকলেও মাঝখানে বড় ফাঁক তৈরি হওয়ায় চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। এর ফলে চরাদী, হলতা, সন্তোষদী, মকিমাবাদ ও দক্ষিণ চরাদী গ্রামের মানুষের সঙ্গে উপজেলা সদরের কার্যকর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, প্রতিদিন প্রায় ২০ হাজার মানুষ এই সেতু ব্যবহার করে চরাদী বাজার, ইউনিয়ন পরিষদ, ভূমি অফিস, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যাতায়াত করেন। সেতু ধসে পড়ায় এখন কয়েক কিলোমিটার ঘুরে বিকল্প পথে চলাচল করতে হচ্ছে, যা সময়ের পাশাপাশি পরিবহন ব্যয়ও বাড়িয়ে দিয়েছে। তাদের আশঙ্কা, দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে শিক্ষা কার্যক্রম, স্বাস্থ্যসেবা, কৃষিপণ্য পরিবহন এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

এ বিষয়ে বাকেরগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী হাসনাইন আহমেদ বলেন, "ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে। সেতুটি মেরামত নাকি পুনর্নির্মাণ করতে হবে, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।"