দীর্ঘদিন ধরে অবসর ও কল্যাণ ট্রাস্টের অর্থ না পেয়ে চরম ভোগান্তির মুখে থাকা দেশের ১ লাখ ১৯ হাজার শিক্ষক ও কর্মচারী অবশেষে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেন। তাদের আটকে থাকা অর্থ বিতরণের সিদ্ধান্তে সম্মতি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আগামী ১৫ আগস্ট আনুষ্ঠানিকভাবে এই কার্যক্রম উদ্বোধনের কথা রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত এক সভায় এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, অবসর সুবিধা বোর্ডের অর্থ পাবেন ৭৫ হাজার শিক্ষক-কর্মচারী এবং কল্যাণ ট্রাস্টের অর্থ পাবেন ৪৪ হাজার শিক্ষক-কর্মচারী।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে জানান, কল্যাণ ট্রাস্টের পুরো পাওনা অর্থই শিক্ষক-কর্মচারীদের দেওয়া হতে পারে। আর অবসর সুবিধা বোর্ড থেকে প্রত্যেককে ৫ লাখ টাকা করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। আগামী ১৪ আগস্ট এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত জানাবেন শিক্ষামন্ত্রী।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, অবসরের অপেক্ষায় থাকা ১ লাখ ৫ হাজার ৬৪৪ শিক্ষক-কর্মচারীর পাওনা পরিশোধে প্রায় ৯ হাজার ৭৫৭ কোটি টাকা প্রয়োজন। এর মধ্যে অবসর সুবিধা বোর্ডে জমা পড়া ৫৯ হাজার ৮২০টি আবেদনের বিপরীতে প্রয়োজন প্রায় ৭ হাজার ১৭৬ কোটি টাকা। অন্যদিকে কল্যাণ ট্রাস্টে জমা হওয়া ৪৫ হাজার ৮২৪টি আবেদনের বিপরীতে প্রয়োজন প্রায় ২ হাজার ৫৮১ কোটি টাকা।

শিক্ষকদের অবসর সুবিধার অর্থ পরিশোধে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জন্য ৩ হাজার কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। শুরুতে অর্থ বিভাগ ৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব দিলেও পরে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের উদ্যোগে বরাদ্দের পরিমাণ বাড়ানো হয়। এর আগে অবসর সুবিধা বোর্ডের জন্য ২ হাজার কোটি টাকা এবং কল্যাণ ট্রাস্টের জন্য ১ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ চেয়ে অর্থ বিভাগে ডিও (ডেমি-অফিসিয়াল) চিঠি পাঠিয়েছিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়।