মিথ্যা অভিযোগের মাধ্যমে মানহানির প্রতিবাদ জানিয়ে বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য বীথিকা বিনতে হোসাইনকে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাতে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার মিডিয়া সেল থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, "আপনারা অবগত আছেন যে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকেই পরাজিত ফ্যাসিস্ট শক্তি এবং রাজনৈতিক স্বার্থে কিছু স্বার্থান্বেষী মহল নিয়মিত গণ-অভ্যুত্থানের নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে নানারকম অপপ্রচার এবং চরিত্রহননের চেষ্টা করে যাচ্ছে। বিগত দুই বছর ধরেই নানা রকম অপবাদ এবং অপপ্রচারের শিকার হচ্ছেন আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। তবে এখন পর্যন্ত কেউই কোন সুনির্দিষ্ট অভিযোগ কিংবা প্রমাণ উত্থাপন করতে পারেনি।"
অভিযোগ করা হয়েছে যে, সম্প্রতি একটি পাবলিক প্রোগ্রামে বিএনপির সংরক্ষিত নারী এমপি বীথিকা বিনতে হোসাইন দাবি করেন, বিসিবির সদস্য হওয়ার জন্য আসিফ মাহমুদ তার কাছে ৩ কোটি টাকা চেয়েছেন। বিষয়টি গণমাধ্যমে আসার পর আসিফ মাহমুদের পক্ষ থেকে একাধিকবার যোগাযোগ করে অভিযোগের প্রমাণ এবং সুনির্দিষ্ট তথ্যের অনুরোধ জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, তিনি তথ্য দেওয়ার কথা জানালেও শেষ পর্যন্ত কোনো প্রমাণ দেননি।
বারবার যোগাযোগের পর তিনি জানান, "আমাকে তো এমনটাই বলা হয়েছে"। এরপর তিনি তথ্য জানাবেন বলে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। আসিফ মাহমুদের পক্ষের দাবি, এর মাধ্যমে প্রতীয়মান হয় যে, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে চরিত্রহননের লক্ষ্যেই ওই বক্তব্য দেওয়া হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে আসিফ মাহমুদ আইনি নোটিশ পাঠিয়ে আগামী সাত দিনের মধ্যে অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ উপস্থাপনের অনুরোধ জানিয়েছেন। অন্যথায়, তাকে প্রকাশ্যে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে বক্তব্য প্রত্যাহার করতে হবে। নোটিশে সতর্ক করা হয়েছে যে, তিনি যদি এর কোনোটিই না করেন, তবে তার বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে মানহানির প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, এসব ধারাবাহিক অপপ্রচার কেবল ব্যক্তি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে নয়, বরং "জুলাই গণঅভ্যুত্থানের নেতৃত্ব, চেতনা ও অর্জনকে পরিকল্পিতভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টার অংশ।"
আসিফ মাহমুদ জানান, জুলাইয়ের পক্ষের আরও অনেকে একই ধরনের মিথ্যাচার ও অপপ্রচারের শিকার হয়েছেন। এখন থেকে মিথ্যাচার, অপপ্রচার ও চরিত্রহননের প্রতিটি অপচেষ্টার জবাব আইনের মাধ্যমেই দেওয়া হবে।