সিলেট নগরের শিবগঞ্জ এলাকার গ্রিনহিল স্টেট কলেজের এক অফিস সহকারী টানা চার বছর ধরে উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন করে আসছিলেন। এবারও তিনি সাড়ে পাঁচ শতাধিক খাতা মূল্যায়ন করেছেন। বিষয়টি জানাজানির পর সিলেট শিক্ষা বোর্ড কলেজ অধ্যক্ষকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ পাঠালে অভিযুক্ত কর্মচারীকে বরখাস্ত করে বোর্ডের কাছে লিখিতভাবে দুঃখপ্রকাশ করেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাতে সিলেট মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক বিলকিস ইয়াছমীন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, দুদিন আগে ঘটনাটি জানার পর কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সীতেশ রঞ্জন বর্মনকে কারণ দর্শানোর চিঠি দেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার তিনি চিঠির জবাব দিয়েছেন এবং ভুল স্বীকার করে দুঃখপ্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সভায় ওই কর্মচারীকে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে। বোর্ডের পক্ষ থেকে বিষয়টি শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, নীতিমালার তোয়াক্কা না করে এবং প্রয়োজনীয় যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও জয়ন্ত দত্ত নামে এক কর্মচারীকে পরীক্ষক হিসেবে মনোনয়ন দেয় গ্রিনহিল স্টেট কলেজ। জয়ন্ত ওই প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন ধরে অফিস সহকারী হিসেবে কর্মরত। চলতি বছর চতুর্থবারের মতো এইচএসসি পরীক্ষার পরীক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন তিনি। এবার তিনি বাংলা প্রথম পত্রের ৫৫৪ জন পরীক্ষার্থীর উত্তরপত্র মূল্যায়ন করে শিক্ষা বোর্ডে জমা দিয়েছেন। অথচ পরীক্ষক হওয়ার জন্য যে শিক্ষাগত যোগ্যতা ও শর্তাবলি প্রয়োজন, তা তার ছিল না।
শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী, যে শিক্ষক যে বিষয়ে পাঠদান করেন, কেবল সেই বিষয়েই পরীক্ষক হওয়ার জন্য আবেদন করতে পারেন। এছাড়া কলেজ পর্যায়ের পরীক্ষক হতে হলে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি থাকা বাধ্যতামূলক।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০১০ সালে প্রতিষ্ঠিত গ্রিনহিল স্টেট কলেজে ২০১১ সাল থেকে পাঠদান শুরু হয়। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই জয়ন্ত দত্ত অফিস সহকারী হিসেবে কাজ করছেন। তিনি এমসি কলেজ থেকে পাস কোর্সে ডিগ্রি সম্পন্ন করেন এবং ২০১৯ সালে দূরশিক্ষণে বাংলা বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অনার্স বা স্নাতক না থাকা সত্ত্বেও তাকে ‘প্রভাষক’ হিসেবে কাগজপত্রে ভুয়া নিয়োগ দেখিয়ে বোর্ডে পরীক্ষক হিসেবে সুপারিশ করে কলেজ কর্তৃপক্ষ, যা নীতিমালার গুরুতর লঙ্ঘন।
কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ভাষ্যমতে, জয়ন্ত দত্ত এখনো বাস্তবে অফিস সহকারী পদেই কর্মরত। তিনি পাস কোর্সে স্নাতক হওয়ায় বিধি অনুযায়ী প্রভাষক পদে নিয়োগ পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
অভিযোগের বিষয়ে জয়ন্ত দত্ত বলেন, "কলেজ প্রতিষ্ঠার পর থেকেই আমি কর্মরত। ২০১৯ সালে বাংলায় স্নাতকোত্তর শেষ করার পর শিক্ষকসংকট থাকায় বাংলা পড়ানো শুরু করি।" তবে প্রভাষক হিসেবে বৈধ নিয়োগপত্রের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, "প্রয়াত অধ্যক্ষ প্রশান্ত কুমার সাহার কাছে নিয়োগপত্রটি ছিল। তার মৃত্যুর পর সেটি কোথায় আছে তা খুঁজে দেখতে হবে।" নিজের কাছে সেই নিয়োগপত্রের কোনো অনুলিপি নেই বলেও তিনি স্বীকার করেন।