জার্মান ক্লাব আরবি লাইপজিগ থেকে আইভরি কোস্টের তরুণ উইঙ্গার ইয়ান দিওমান্দেকে দলে নিল রিয়াল মাদ্রিদ। ১৯ বছর বয়সী এই ফুটবলারের দলবদলের সব শর্ত পূরণ হলে স্প্যানিশ ক্লাবটির মোট খরচ হতে পারে ১২ কোটি পাউন্ড বা ১৪ কোটি ইউরো, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা।

রিয়ালের সঙ্গে সাত বছরের চুক্তিতে সই করেছেন দিওমান্দে। এই চুক্তির পুরো অর্থ পরিশোধ করা হলে তিনি হয়ে যাবেন রিয়াল মাদ্রিদের ইতিহাসের সবচেয়ে দামি খেলোয়াড়। এর আগে ২০২৩ সালে জুড বেলিংহামের জন্য বরুসিয়া ডর্টমুন্ডকে ১১ কোটি ৫০ লাখ পাউন্ড দিয়েছিল রিয়াল।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ রিয়াল মাদ্রিদের অফিসিয়াল হ্যান্ডেল থেকে তাকে স্বাগত জানিয়ে লেখা হয়েছে, "👋 Welcome Diomande 👋".

দিওমান্দেকে দলে নেওয়ার লড়াইয়ে একসময় এগিয়ে ছিল প্যারিস সেন্ট জার্মেই। তবে তাদের ১০ কোটি ২৫ লাখ পাউন্ডের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যাত হলে আলোচনা থেকে সরে দাঁড়ায় ফরাসি ক্লাবটি। অন্যদিকে, মোহাম্মদ সালাহর বিকল্প হিসেবে জুনে ৬ কোটি ৯০ লাখ পাউন্ডের প্রস্তাব দিয়েছিল লিভারপুল, যা লাইপজিগ ফিরিয়ে দেয়।

নতুন কোচ হোসে মরিনিওর অধীনে এই গ্রীষ্মকালীন দলবদলে রিয়ালের ষষ্ঠ নতুন সদস্য দিওমান্দে। তার আগে বের্নার্দো সিলভা, ইব্রাহিমা কোনাতে, ডেনজেল ডামফ্রিস, মার্ক কুকুরেয়া ও কার্লোস এসপি-কে দলে যুক্ত করেছে মাদ্রিদের এই ক্লাবটি।

গত মৌসুমে বুন্দেসলিগায় ১২টি গোলের পাশাপাশি আটটি গোলে সহায়তা করেন দিওমান্দে। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে তার গোল সংখ্যা ১৩ এবং অ্যাসিস্ট ১০টি। এই দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২৫-২৬ মৌসুমে বুন্দেসলিগার সেরা তরুণ খেলোয়াড় নির্বাচিত হন তিনি।

২০২৬ বিশ্বকাপে আইভরি কোস্টের হয়ে চারটি ম্যাচ খেলেছেন দিওমান্দে। তবে কোয়ার্টার ফাইনালে নরওয়ের কাছে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেয় তার দল।

দুই প্রান্তেই খেলার সক্ষমতা থাকলেও রিয়ালের আক্রমণভাগের ডান দিকে তাকে ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। গতি, ড্রিবলিং এবং ওয়ান-অন-ওয়ান লড়াইয়ে দক্ষতার পাশাপাশি গোল করা ও সুযোগ তৈরির ক্ষমতার কারণে তিনি বর্তমানে ইউরোপের অন্যতম আলোচিত তরুণ ফুটবলার।

আইভরি কোস্ট থেকে যুক্তরাষ্ট্রের একটি একাডেমিতে যাওয়ার পর ২০২৫ সালে স্পেনের লেগানেসে যোগ দেন দিওমান্দে। একই বছর লাইপজিগে পাড়ি জমান তিনি। ইউরোপে প্রথম পূর্ণ মৌসুম শেষ করেই এবার রিয়াল মাদ্রিদে পৌঁছালেন এই তরুণ তারকা।