আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, প্রতি বছরের ১৫ জুলাই দিনটি ‘জাতীয় ফুটবল দল দিবস’ হিসেবে পালিত হবে। চলতি বছরের এই দিনেই বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয়লাভ করেছিল লিওনেল মেসির নেতৃত্বাধীন আর্জেন্টিনা দল।

সাধারণত একটি সেমিফাইনাল জয়ের জন্য আলাদা দিবসের ঘোষণা অবাক করার মতো মনে হলেও, প্রতিপক্ষ যখন ইংল্যান্ড হয়, তখন এই আবেগের কারণটি স্পষ্ট হয়ে যায়। গতকাল কার্যনির্বাহী কাউন্সিলের সভা শেষে এক বিবৃতিতে এএফএ নিশ্চিত করেছে, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেই মহাকাব্যিক জয়টিকে স্মরণীয় করে রাখতেই এই তারিখটি নির্বাচন করা হয়েছে। আটলান্টা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ওই ম্যাচে ৮৪ মিনিট পর্যন্ত ইংল্যান্ড এগিয়ে থাকলেও, শেষ মুহূর্তে নাটকীয় প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে ২-১ ব্যবধানে জয় পায় আর্জেন্টিনা এবং টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ ফাইনালে ওঠে।

তবে এই জয়ের রেশ কেবল মাঠের লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ থাকেনি। ম্যাচ শেষে আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়রা মাঠে একটি ব্যানার প্রদর্শন করেন, যাতে লেখা ছিল ‘লাস মালভিনাস সন আর্জেন্তিনাস’ (মালভিনাস আর্জেন্টিনার)। ঐতিহাসিকভাবে ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জকে মালভিনাস নামে ডেকে থাকে আর্জেন্টিনা, আর এই দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে তাদের বিরোধ দীর্ঘদিনের।

এই ব্যানারের ঘটনায় ইংল্যান্ডে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয় এবং যুক্তরাজ্য সরকার ফিফার কাছে বিষয়টি তদন্তের দাবি জানায়। ফিফা জানিয়েছে, তারা এই তদন্ত শুরু করেছে। বিতর্কের সূত্র ধরে গত সপ্তাহান্তে দ্বিতীয় বিভাগের এক লিগ ম্যাচে আর্জেন্টিনার ক্লাব আলমিরান্তে ব্রাউন তাদের নতুন জার্সি উন্মোচন করে, যেখানে ফকল্যান্ড দ্বীপের সার্বভৌমত্বের দাবিতে স্লোগান ছাপা ছিল।

এএফএ সভাপতি ক্লদিও তাপিয়া সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে উল্লেখ করেন, ইংল্যান্ডকে হারানোর মুহূর্তটি আর্জেন্টাইনদের কাছে বিশ্বকাপ জয়ের অনুভূতির মতোই। এদিকে, ফাইনালে স্পেনের কাছে ১–০ গোলে হেরে যাওয়া জাতীয় দলের পারফরম্যান্স নিয়ে বুধবারের সভায় তিনি বলেন, “জাতীয় দলের পারফরম্যান্সে আমরা গর্বিত।”